চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলো জেনে নিন

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলো জেনে নিন
5 (100%) 3 votes

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় জানা থাকলে নিজের মাথার চুলকে রাখতে পারবেন ঝলমলে। চুল নিয়ে সব চাইতে বড় সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা। ছেলে ও মেয়েদের জন্য এখনকার দূষিত পরিবেশে চুল পড়ে যাওয়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা। কিন্তু অনবরত চুল পড়ে মাথায় টাক পড়ে যাওয়ার কারনে এটি মানসিক কষ্টের কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে। দিনে ৫০-১০০ টি চুল পড়া স্বাভাবিক। চুল পড়া রোধ করার কিছু উপায় আছে যা আসলেই কাজ করে। তবে এই উপায়গুলো থেকে যদি ফল পেতে চান আপনার দরকার হবে অনেক ধৈর্য্যের। বিশেষ করে এই বর্ষাকালে চুল পড়ার সমস্যা অনেক বেড়ে যায়। স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার সহসা চুল শুকাতে না চাওয়ার কারণে চুলের গোঁড়া নরম হয়ে এই সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল পড়া কমাতে যে বিষয় গুলো খেয়াল রাখবেন

চুল পড়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখ। রক্তস্বল্পতা, ওজন কমানোর জন্য খাওয়া দাওয়া একদম কমিয়ে দেওয়াও চুল পড়ার কারণ হতে পারে। সুষম খাবারের বদলে অতিরিক্ত ফাস্টফুড, চকলেট ইত্যাদি খেলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হয়েও চুল পড়ে যেতে পারে। ছেলেদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাকব্রাশ করে চুল আঁচড়ালে সাধারণত কপাল চওড়া হয়ে থাকে। ব্যাকব্রাশ করার কারণে অনেকের মাথায় টাক পড়তেও দেখা যায়। আসুন জেনে নিই চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে যে বিষয় গুলো খেয়াল রাখা জরুরী।

চুল পরিষ্কার রাখা – চুল পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে আপনার নিয়মিত চুল পরিষ্কার না করার বাজে অভ্যাস। চুল পড়া রোধে নিয়মিত চুলের যত্ন নিন। নিয়মিত চুল না ধুলে মাথার ত্বকে ময়লা জমে খুশকির জন্ম হয় যা কিনা চুল পড়ার অন্যতম কারণ। আর খেয়াল রাখুন চুল ধোয়ার জন্য আপনার ব্যবহার করা শ্যাম্পু যেন অবশ্যই হালকা হয়।

পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করা – আমাদের চুলের গঠনের অন্যতম উপাদান হল কেরাটিন, যা কিনা অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি এক ধরণের প্রোটিন। নতুন চুল গজানোর জন্যে অবশ্যই আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত অ্যামিনো এসিড সরবরাহ করতে হবে। মাছ, মাংস, পনির, দুধ, ডিম – আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিনই এগুলোর অন্তত একটি রাখার চেষ্টা করুন। সয়াবিন, মটরশুঁটি, কলা , বাদাম ইত্যাদি থেকেও পেতে পারেন এ উপাদান। মনে রাখবেন ভেতর থেকে পুষ্টি না সরবরাহ করতে পারলে বাইরের কোন কিছুই আপনাকে চুল পড়া থেকে রক্ষা করতে পারবেনা। চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে খাবারে ভূমিকা গুরত্বপূর্ণ।

ভিটামিন – ভিটামিন কেবল মাত্র আমাদের দেহের সুস্থতার জন্যই জরুরী নয় বরং আমাদের চুলের জন্য ও এটা ভীষণ জরুরী। ভিটামিন- এ মাথার ত্বক থেকে উপকারি সিরাম সরবরাহ করে আর ভিটামিন এ মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তাই চুল পড়া রোধ করতে চাইলে আগে সবার আগে নিশ্চিত করুন আপনার শরীর যাতে পর্যাপ্ত ভিটামিন পায়।

জিঙ্ক ও আয়রন গ্রহণ – জিঙ্ক আর আয়রন আমাদের মাথার ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ করতে সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রাখে। আর মাথার চুল পড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী কারণ গুলোর একটি হলো মাথার ত্বকে অক্সিজেনের সল্পতা। তাই চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে জিঙ্ক আর আয়রন বেশী বেশী গ্রহণ করুন। যেমন মটরশুঁটি, বাদাম, কলিজা, মাংস, দুধে আপনার প্রয়োজনীয় জিংক আর আয়রন বিদ্যমান। আপনি আপনার খাবার তালিকায় এই খাবারগুলো রাখতে ভুলবেন না।

প্রাকৃতিক উপায়ে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় (১) – প্রাকৃতিক উপায়ে চুল ঝলমলে ও সুন্দর রাখতে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন আমলকীর তেল। এটি খুশকি দূর করার পাশাপাশি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া চুল পড়া বন্ধ করতেও এর জুড়ি নেই। প্রথমে একটি পাত্রে ১ কাপ নারকেল তেল নিন। ৩ টেবিল চামচ আমলকী গুঁড়া অথবা ৪ টেবিল চামচ আমলকীর পেস্ট মেশান তেলে। পাত্রটি ঢেকে মৃদু আঁচে চুলায় রেখে দিন ১ ঘণ্টা। তেল নামিয়ে ঠাণ্ডা করুন। পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিন। মুখবন্ধ বয়ামে সংরক্ষণ করুন আমলকীর তেল। রাতে ঘুমানোর আগে আমলকীর তেল ভালো করে ম্যাসাজ করুন চুলের গোড়ায়। পরদিন সকালে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু করার ১ ঘণ্টা আগে ব্যবহার করলেও উপকার পাবেন।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় (২) – চুলের যত্নে নারকেল তেলের মতো ব্যবহার করতে পারেন সরিষার তেলও। এটি খুশকি দূরে করে অকালে চুল পড়া বন্ধ করে। পাশাপাশি চুলে নিয়ে আসে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা। সপ্তাহে একদিন চুলে ব্যবহার করতে পারেন সরিষার তেল। একটি পাত্রে ৪ টেবিল চামচ সরিষার তেল নিন। ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল মেশান। ২ টেবিল চামচ মেথি বাটা মিশিয়ে নিন মিশ্রণে। ১ চা চামচ দারুচিনি গুড়া দিন। এবার মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে সরিষার তেল দারুণ কার্যকারী। সরিষার তেলে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ওমেগা- ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও জিঙ্ক। এগুলো চুলের যত্নে অতুলনীয়। সরিষার তেলে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান মাথার ত্বকের ইনফেকশন ও চুলকানি দূর করে।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় (৩) – নারকেলের দুধ চুলের ভেতর থেকে চুলকে মজবুত করতে সহায়তা করে। চুলের সঠিক ন্যারিশমেন্টের জন্য নারকেল দুধের বিকল্প নেই। এছাড়াও নারকেলের দুধ ডিপ কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। প্রথমে নারকেল কুরিয়ে নিন। এরপর এই কোরানো নারকেল ব্লেন্ডারে বা গ্রাইন্ডারে অথবা পাটায় বেটে নিন ভালো করে। এরপর পিষে বা বেটে নেয়া নারকেল একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে রেখে চিপে ভালো করে নারকেলের দুধ বের করে নিন। প্রয়োজনে প্রতিদিন এই নারকেলের দুধ চুলের গোঁড়ায় ভালো করে ম্যাসেজ করে নেবেন। অতিরিক্ত চুল পড়তে থাকলে প্রতিদিন ব্যবহার করুন, যদি অতিরিক্ত না হয় তাহলে সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাবেন।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় (৪) – চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন মেথির হেয়ার প্যাক। মেথিতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, পটাসিয়াম, আয়রনসহ আরও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান যা চুল পড়া বন্ধ করে। হেয়ার প্যাক তৈরি করতে মুঠো ভর্তি মেথি, ২ চা চামচ বেসন ও ১ চা চামচ দই নিন।
মেথি ৬ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ব্লিন্ডারে দিন। বেসন ও দই দিয়ে ভালো করে ব্লিন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। চুলের গোড়ায় ১০ মিনিট লাগিয়ে রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ দিন এই হেয়ার প্যাক ব্যবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হবে।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় (৫) – পেয়ারা গাছের পাতা চুলের জন্যও অনেক ভালো। শুনতে কিছুটা অবাক শোনালেও পেয়ারা পাতা চুল পড়া বন্ধতে অনেক কার্যকরী। পেয়ারা পাতায় অ্যান্টি ইনফ্লামেটরী, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে যা মাথার তালু সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এমনকি এটি চুলের খুশকি হওয়া রোধ করে। ভিটামিন সি মাথার তালুতে ফলিক অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রেখে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। প্রথমে এক মুঠো পেয়ারা পাতা এবং ১ লিটার পানি নিন। একটি পাত্রে পানি জ্বাল দিতে দিন। পানি ফুটে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ফুটে এলে এতে পেয়ারা পাতা দিয়ে দিন। পেয়ারা পাতা দিয়ে ২০ মিনিট জ্বাল দিন। ২০ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এবার মাথায় ব্যবহার করার জন্য প্রথমেই চুল ভালো করে শ্যাম্পু করে নিন। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। চুল কিছুটা শুকিয়ে এলে পেয়ারা পাতার পানি মাথার তালুতে কমপক্ষে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এই মিশ্রণটি চুলে ২ ঘন্টা লাগিয়ে রাখুন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে চুলে ধুয়ে ফেলুন। যদি চুল পড়া সমস্যা অনেক বেশি থাকে তবে সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করুন এটি চুল পড়া বন্ধ করবে। আর যদি চুল শাইনি সিল্কি করে তুলতে চান তবে সপ্তাহে দুইবার এটি ব্যবহার করুন।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় (৬) – সালফার এমন একটি উপাদান যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। রসুন ও পেঁয়াজের মধ্যে প্রচুড় পরিমাণে সালফার থাকে যা চুলের জন্য খুবই উপকারী। তাই যেভাবে আপনি রসুন ও পেঁয়াজ ব্যবহার করে চুল পড়া রোধ করতে পারেন তা হল – সমপরিমাণ পেঁয়াজের রস ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১ ঘন্টা। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে ২ বার করে নিয়মিত ব্যবহার করুন। এছাড়া রঁসুনের ৫/৬ টি কোয়া নিয়ে বেঁটে নিন। এবার এই বাঁটা অংশটি নারিকেল তেলে কিছুক্ষন চুলায় ফুটিয়ে নিন। মিশ্রনটি ঠান্ডা হলে মাথার ত্বকে লাগান। সপ্তাহে ২/৩ বার করে নিয়মিত ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় (৭) – আলু চুলের যত্নেও ব্যবহার করা যায়। একটি ব্লেন্ডারে ৩ টি আলু নিয়ে এর রস সংগ্রহ করুন। এবার আলুর রসে একটি ডিমের কুসুম, কিছু পরিমাণ পানি ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন ভালো করে। ভেজা চুলে এই মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। এরপর হাল্কা কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্রক্রিয়াটি সপ্তাহে একবার করে কয়েক মাসের জন্য টানা ব্যবহার করে দেখুন। দেখবেন চুল পড়া কমে গেছে।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় (৮) – মেহেদীর নির্যাস চুলের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর, ডিম মাথার ত্বকে সঠিক পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করে এবং চুলের ফলিকল মজবুত করে। টকদই চুল ও মাথার ত্বক ভালো রাখে এবং চুল পড়া বন্ধে সহায়তা করে। মেহেদী পাতা বাটা বা গুঁড়ো চুলের ঘনত্ব ও লম্বা অনুযায়ী নিন, এতে মেশান ১ টি ডিমের সাদা অংশ এবং ২-৩ টেবিল চামচ টকদই। যদি চুল অনেক শুষ্ক হয় তাহলে ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল দিয়ে ভালো করে হেয়ার প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি চুলের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালো করে লাগিয়ে নিন এবং প্রায় ২ ঘণ্টা এভাবেই রেখে দিন। এরপর সাধারণ ভাবে চুল ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। যদি প্রথম দিন চুল পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে ১ দিন এভাবেই রেখে তার পরের দিন শ্যাম্পু করতে পারেন তাহলে সব চাইতে ভালো ফলাফল পাবেন। এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে মাত্র ২ বার ব্যবহার করলেই চুল পড়া অনেকাংশে কমে যাবে।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় (৯) – চুল পড়া বন্ধ করতে নিমপাতার জুড়ি নেই। তাজা নিমপাতা নিয়ে বেঁটে তাতে সামান্য অ্যাপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে মাথায় লাগান। কিছুক্ষণ পর হালকা কোন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়তে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে চুল পড়া কমে আসবে।

যেসব বিষয়ে সচেতন থাকবেন

চুল মানুষের সৌন্দর্য্যের অন্যতম অংশ। চুল পড়া নিয়ে সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। একটু সচেতন হলেই চুল পড়া রোধ করা সম্ভব। চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে আপনাকে যা করতে হবে-

▪চুল পড়ার অন্যতম কারন হলো ভেজা চুল আচড়ানো। ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া নরম থাকে তাই শুকানোর পরে চুল আচড়ানো উচিত।

▪চুলের গোড়া শক্ত রাখতে প্রচুর পরিমানে পানি খাওয়া উচিত। তাছাড়া পানি শুধু চুলের জন্য নয় স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্যেও অত্যাবশ্যকীয় ।

▪প্রতিদিন শ্যাম্পু না করে ২ দিন অন্তর শ্যাম্পু করুন। এতে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা ত্বকের তৈলাক্ত ভাব বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। আবার চুলের উজ্জ্বলতাও ঠিক থাকবে।

▪শ্যাম্পু করার মাঝে খুব বেশি কিছুদিন গ্যাপ দেওয়াও ঠিক নয়। এতে ময়লা জমে চুল রুক্ষ হয়ে যাবে আবার চুল পড়াসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার চুলের স্বাস্থ্যে ও ধরণ বুঝে সঠিক ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু বাছাই করুন।

▪শ্যাম্পু করার আগে চুল আঁচড়ে নিন ও পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিবেন।

▪শ্যাম্পু করার সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি নির্দিষ্ট পরিমাণ শ্যাম্পুর সাথে মিক্স করে ব্যবহার করুন যাতে ফেনা বেশি হয় আর চুলের গোঁড়ায় শ্যাম্পু ভালোভাবে যায়।

▪ফেনাযুক্ত চুল হালকা ভাবে আস্তে আস্তে ঘসতে থাকুন আর আঙ্গুলের ডগা দিয়ে ঠিকঠাক ম্যাসাজ করুন। ১৫ মিনিট আঙুল এর ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাসাজা করুন। এভাবে শ্যাম্পু করলে আপনার মাথার তালুতে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হবে।

▪মোটা দাতেঁর চিরুনি দিয়ে চুল আস্তে আস্তে আঁচড়াবেন যাতে চুলের সঙ্গে জমে থাকা ময়লা উঠে যায়।

▪শ্যাম্পু করার জন্য অবশ্যই সবসময় ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন। গরম পানি আপনার চুলের গোড়া নরম করে ফেলে চুল পড়া সমস্যা তৈরি করবে।

▪একই সঙ্গে ২য় বার শ্যাম্পু করুন। তবে ২য় বার শ্যাম্পু করা ভাল কারণ, চুলের গোড়ায় ম্যাসাজের ফলে সিরাম নামক এক ধরণের তেল বের হয় যা ২য় বার শ্যাম্পুর ফলে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

▪চুলকে উজ্জ্বল, নরম আর ফুরফুরে রাখতে শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। অবশ্যই ব্রান্ডের বিশ্বস্ত কন্ডিশনার চুলে হালকা ভাবে লাগিয়ে একটু সময় অপেক্ষা করে ঠাণ্ডা ও বেশি পরিমাণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

▪ভেজা চুল বেশিক্ষণ রাখবেন না। চুল মোছার জন্য পরিস্কার নরম তোয়ালে ব্যবহার করুন।

▪মানসিক চাপ চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারন। মানসিক চাপ দূর করতে মেডিটেশন ও যোগ ব্যায়াম করুন।

▪ব্যায়াম করলে হরমোনাল ব্যালেন্স ঠিক থাকে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে ১৫-৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

128 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About অনন্যা মিতু

রক্তের সর্ম্পক ছাড়া যদি আর কোনো ঘনিষ্ট কোনো সর্ম্পক থাকে সেটা হলো বন্ধুত্ব।ভাগ্য তোমার আত্মীয় বেছে দেয় আর তুমি বেছে নাও তোমার বন্ধু।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন