চাঁদ নিয়ে কবিতা

চাঁদ নিয়ে কবিতা
4 (80%) 4 votes

চাঁদ নিয়ে কবিতা লিখেছেন কবি সাহিত্যিকেরা যুগ যুগ ধরে। গীতিকারেরা রচনা করেছেন অসংখ্য হৃদয়কাড়া গান! প্রেমিকরা চাঁদকে সাক্ষী রেখে প্রেমিকার হাত ধরে করেছেন ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা। অনাদিকাল থেকে মানুষ মন খারাপ হলে ঘরের জানালা দিয়ে অথবা বাইরে বসে চাঁদ দেখে দেখে মনের দুঃখ দূর করে। পৃথিবী এবং পৃথিবীর মানুষ থেকে চাঁদের অবস্থান অনেক দূরে। তবু চাঁদের সাথে একেবারে ছোটবেলা থেকেই প্রতিটি মননশীল মানুষের সাথে গড়ে ওঠে এক নিবিড় আত্মীয়তার বন্ধন। তাইতো আমরা ছোটবেলাতেই চাঁদ নিয়ে কবিতা শুনতাম –

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা
চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা

 

চাঁদের সাথে এই বন্ধন গভীর আবেগে ভরা। এখানে বাস্তবতা কিংবা যুক্তি তর্কের কোনো বালাই নেই। চাঁদের সাথে যার যেমন ইচ্ছে সে তেমনি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। চাঁদকে নিয়ে যার যা ইচ্ছে সে তাই ভাবতে পারে। এর কোনো ধরা বাঁধা নিয়ম নেই, কানুন নেই। শুধু তাই নয়, পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ আছে যাদের ধর্মীয় জীবন, আবেগ অনুভূতি এবং আচার আচরণের সঙ্গে চাঁদ ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। যেমন মুসলমানেরা রোজা রাখে এবং ঈদ করে চাঁদ দেখে। এমনকি হিন্দুদের পূজা পার্বণ এবং বিয়ের লগ্ন গণনা করা হয় চন্দ্র তারিখের ভিত্তিতেই। সর্বোপরি চাঁদ জীবন্ত, আলো ঝলমল, সোনালী আভায় ভরা থালার মতো ভালোবাসার কোনো বস্তু নয়। কবি সুকান্তের ভাষায় ঝলসানো রুটিও নয়। চাঁদের রঙ সোনালি নয়, লাল নয়, গোলাপিও নয়। এটা কুচকুচে কালো কুৎসিত কদাকার। চাঁদের যে আলো আমরা দেখতে পাই, তা সূর্য থেকে ধার করা। তারপরেও আমরা চাঁদ দেখে আনন্দে আপ্লুত হই। চাঁদ আমাদের হৃদয় কেড়ে নেয়, মনে ভাবের ঢেউ তুলে দেয়, তাইতো আমরা চাঁদ নিয়ে কবিতা লিখি,গান গাই, প্রেম নিবেদন করি। চাঁদ এখনো আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, চাঁদ নিয়ে কবিতা এখনো আমাদের হৃদয়ে, মনে দোলা দিয়ে যায়।

চাঁদ নিয়ে কবিতা

চাঁদ নিয়ে কবিতা

আকাশের চাঁদ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হাতে তুলে দাও আকাশের চাঁদ
এই হল তার বুলি।
দিবস রজনী যেতেছে বহিয়া,
কাঁদে সে দু হাত তুলি।
হাসিছে আকাশ, বহিছে বাতাস,
পাখিরা গাহিছে সুখে।
সকালে রাখাল চলিয়াছে মাঠে,
বিকালে ঘরের মুখে।
বালক বালিকা ভাই বোনে মিলে
খেলিছে আঙিনা-কোণে,
কোলের শিশুরে হেরিয়া জননী
হাসিছে আপন মনে।
কেহ হাটে যায় কেহ বাটে যায়
চলেছে যে যার কাজে–
কত জনরব কত কলরব
উঠিছে আকাশমাঝে।
পথিকেরা এসে তাহারে শুধায়,
“কে তুমি কাঁদিছ বসি।’
সে কেবল বলে নয়নের জলে,
“হাতে পাই নাই শশী।’
সকালে বিকালে ঝরি পড়ে কোলে
অযাচিত ফুলদল,
দখিন সমীর বুলায় ললাটে
দক্ষিণ করতল।
প্রভাতের আলো আশিস-পরশ
করিছে তাহার দেহে,
রজনী তাহারে বুকের আঁচলে
ঢাকিছে নীরব স্নেহে।
কাছে আসি শিশু মাগিছে আদর
কণ্ঠ জড়ায়ে ধরি,
পাশে আসি যুবা চাহিছে তাহারে
লইতে বন্ধু করি।
এই পথে গৃহে কত আনাগোনা,
কত ভালোবাসাবাসি,
সংসারসুখ কাছে কাছে তার
কত আসে যায় ভাসি,
মুখ ফিরাইয়া সে রহে বসিয়া,
কহে সে নয়নজলে,
“তোমাদের আমি চাহি না কারেও,
শশী চাই করতলে।’
শশী যেথা ছিল সেথাই রহিল,
সেও ব’সে এক ঠাঁই।
অবশেষে যবে জীবনের দিন
আর বেশি বাকি নাই,
এমন সময়ে সহসা কী ভাবি
চাহিল সে মুখ ফিরে
দেখিল ধরণী শ্যামল মধুর
সুনীল সিন্ধুতীরে।

আকাশে চাঁদের আলো
  জীবনানন্দ দাশ

আকাশে চাঁদের আলো—উঠোনে চাঁদের আলো—নীলাভ চাঁদের আলো—এমন চাঁদের আলো আজ
বাতাসে ঘুঘুর ডাক—অশত্থে ঘুঘুর ডাক—হৃদয়ে ঘুঘু যে ডাকে—নরম ঘুঘুর ডাক আজ
তুমি যে রয়েছ কাছে—ঘাসে যে তোমার ছায়া—তোমার হাতের ছায়া—তোমার শাড়ির ছায়া ঘাসে
আকাশে চাঁদের আলো—উঠোনে চাঁদের আলো—নীলাভ চাঁদের আলো—এমন চাঁদের আলো আজ

কেউ যে কোথাও নেই—সকলে গিয়েছে মরে—সকলে গিয়েছে চলে—উঠান রয়েছে শুধু একা
শিশুরা কাঁদে না কেউ—রুগিরা হাঁপায় না তো—বুড়োরা কয় না কথা : থুবড়ো ব্যথার কথা যত
এখানে সকাল নাই—এখানে দুপুর নাই—এখানে জনতা নাই—এখানে সমাজ নাই—নাইকো মূর্খ ধাঁধা কিছু
আকাশে চাঁদের আলো—উঠোনে চাঁদের আলো—নীলাভ চাঁদের আলো—এমন চাঁদের আলো আজ

আর তো ক্লান্তি নাই—নাইকো চেষতা আজ—নাইকো রক্ত ব্যথা—বিমূঢ় ভিড়ের থেকে নিয়েছি জীবন ভরে ছুটি
হেঁটেছি অনেক পথ—আমার ফুরালো পথ—এখানে সকল পথ তোমার পায়ের পথে গিয়েছে নীলাভ ঘাসে মুছে
তুমি যে রয়েছ কাছে—ঘাসে যে তোমার ছায়া—তোমার হাতের ছায়া—তোমার শাড়ির ছায়া ঘাসে
আকাশে চাঁদের আলো—উঠোনে চাঁদের আলো—নীলাভ চাঁদের আলো—এমন চাঁদের আলো আজ

জাগি রহে চাঁদ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বেহাগ
জাগি রহে চাঁদ আকাশে যখন
সারাটি রজনী!
শ্রান্ত জগত ঘুমে অচেতন
সারাটি রজনী!
অতি ধীরে ধীরে হৃদে কী লাগিয়া
মধুময় ভাব উঠে গো জাগিয়া
সারাটি রজনী!
ঘুমায়ে তোমারি দেখি গো স্বপন
সারাটি রজনী!
জাগিয়া তোমারি দেখি গো বদন
সারাটি রজনী!
ত্যজিবে যখন দেহ ধূলিময়
তখনি কি সখি তোমার হৃদয় ,
আমার ঘুমের শয়ন-ঞ্চপরে
ভ্রমিয়া বেড়াবে প্রণয়-ভরে ।
সারাটি রজনী!

চাঁদ নিয়ে কবিতা

চাঁদ নিয়ে কবিতা

গৃহত্যাগী জোছনা
হুমায়ূন আহমেদ

প্রতি পূর্নিমার মধ্যরাতে একবার
আকাশের দিকে তাকাই।
গৃহত্যাগী হবার মত জোছনা কি উঠেছে?

বালিকা ভুলানো জোছনা নয়,
যে জোছনায় বালিকারা ছাদের
রেলিং ধরে ছুটোছুটি করতে করতে বলবে,
ও মাগো! কি সুন্দর চাঁদ!

নব দম্পতির জোছনাও নয়,
যে জোছনা দেখে স্বামী গাড়
স্বরে স্ত্রীকে বলবে;
দেখো দেখো,
চাঁদটা তোমার মুখের মতই সুন্দর।

কাজলা দিদির স্যাঁতস্যাঁতে
জোছনা নয়,
যে জোছনা বাসি স্মৃতিপূর্ণ ডাস্টবিন উল্টে দেয় আকাশে।

কবির জোছনা নয়,
যে জোছনা দেখে কবি বলবেন,
কি আশ্চর্য রুপোর থালার মত চাঁদ।

আমি সিদ্ধার্থের মত
গৃহত্যাগী জোছনার জন্য বসে আছি।
যে জোছনা দেখা মাত্র গৃহের সমস্ত
দরজা খুলে যাবে।
ঘরের ভেতর
ঢুকে পড়বে বিস্তৃত প্রান্তর।

প্রান্তরে হাঁটব, হাঁটব, আর হাঁটব।
পূর্নিমার চাঁদ স্থির হয়ে থাকবে মধ্য আকাশে,
চারিদিক থেকে বিবিধ কন্ঠ
ডাকবে আয়, আয়, আয় ।।

চাঁদ নিয়ে আর কী কবিতা লিখি
সায়ীদ আবুবকর

চাঁদ নিয়ে আর কী কবিতা লিখি
যখন এখানে রাতে
চাঁদের অধিক মানুষেরা লড়ে
ফুলখেকোদের সাথে।

কবিতার ফুল ছিঁড়ে খায় তারা,
ভালবাসাফুল ছেঁড়ে;
স্বাধীনতাফুল খেতে খেতে আসে
হায়েনার মতো তেড়ে।

চাঁদ নিয়ে আর কী কবিতা লিখি
যখন এখানে রাতে
মানুষ-পশুতে চলছে লড়াই
জীবনের জ্যোৎস্নাতে।

 

চাঁদের খোঁজ
অহর্নিশ অশ্রুস্মিতা

চাঁদ দেখাবে বলে
অরূপ আমায় নিয়ে এল সোনাইদীঘির ঘাটে।
চাঁদ দেখি নি, চাঁদ দেখি নি
চাঁদের আলো কী- চিনি নি
আমি শহুরে হাওয়া, বদ্ধ কপাট
জানি নি জ্যোৎস্না কেমন,
দেখি নি কৃষ্ণচূড়ার রঙ
পাই নি হাসনাহেনার গন্ধ।
তাই চাঁদ দেখাবে বলে
অরূপ আমায় নিয়ে এল সেই ভোরবেলায়
নিয়ে এল সোনাইদীঘির ঘাটে।
অরূপ আমায় নিয়ে এল
হাতে পালক গুঁজে উড়িয়ে দিল,
ভাসিয়ে দিল ঘাটের জলে।
আমি শহুরে হাওয়া, ভয় পেলাম।
ও বলল, “ডানা মেল,
আমি চললাম চাঁদের খোঁজে।”
আমি বললাম, “যদি পথ হারাই?”
ও বলল, “তবেই বুঝবে উড়তে শিখেছ,
সন্ধ্যেবেলা যখন আমি জ্যোৎস্না আনব
তখন কিন্তু উড়তে হবে,
জ্যোৎস্নায় ভিজতে হবে
চাঁদের গন্ধ নিতে হবে।”
অরূপ আমায় নিয়ে এল,
আমায় রেখে চলেও গেল!
আমি বসে রইলাম ওর ফেরার অপেক্ষায়,
বসে রইলাম চাঁদ দেখব বলে।

চাঁদ নিয়ে কবিতা

চাঁদ নিয়ে কবিতা

আয় আয় চাঁদ মামা

আয় আয় চাঁদ মামা
টিপ দিয়ে যা
চাঁদের কপালে চাঁদ
টিপ দিয়ে যা।
ধান ভানলে কুঁড়ো দেব
মাছ কাটলে মুড়ো দেব
কাল গাইয়ের দুধ দেব
দুধ খাবার বাটি দেব
চাঁদের কপালে চাঁদ
টিপ দিয়ে যা।

 

চাঁদের আলোয় শাদা ছিলো সে রাত
স্বদেশ রায়

পাহাড়ে সেদিন চলছিলো যেন এক আলোর উৎসব
চাঁদের আলো, অনেক ট্যুরিস্ট তারপরেও কেন যেন
একাকী হয়ে যাই- মনে হয়, কেন এ চাঁদের আলোয়
এভাবে স্নান করছি- তার থেকে কি ভালো ছিলো না
বাথটাবে শরীর ডুবিয়ে হলুদ হুইস্কির গ্লাস হাতে নিয়ে
হোটেলে বসে থাকা- যা হতে পারতো
আমার একান্ত নিজস্ব জগত
তার বদলে এত মানুষের মাঝে উজ্জ্বল চাঁদের
আলোয় কেন বিবর্ণ আমি দাঁড়িয়ে আছি!
হঠাৎই সুধা ওয়াংথন এগিয়ে এলো
হাতে তুলে দিলো এক গোছা পাহাড়ি ফুল
আরেক হাতে রাখলো তার নরম হাত।
বললো, এই চাঁদের আলোয় না এলে ভুল করতে না
শরীরটা নড়ে উঠলো, সুধার মুখের দিকে নয়
আকাশের দিকে গেলো চোখ, দেখলাম চাঁদ কত
সুন্দর অথচ কতদিন তা ভুলে ছিলাম।
নিজেকে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর মনে হলো
মনে হলো একটু আগে লোকাল ফুডের পসরা
নিয়ে যে মেয়েটি চাঁদের আলোয় গান গাইতে গাইতে
পাহাড়ের ওপরের কুটিরের দিকে গেল
ওর থেকে ধনী কোন টেলি টাইকুনও নন।
আর আমি তো কোন্ ছার।

 

চাঁদের আলো মূর্ছা গেলো
সুদীপ তন্তুবায়

চাঁদের আলো মূর্ছা গেলো কালো মেঘের পরে,
আঁধার এলো নেমে আমার আমার ছোট্ট কুড়েঘরে।
কেঁদে বেড়াই ছোট্ট ঘরে ব্যর্থ আশা নিয়ে,
আঁধার বুকে সুখ যে আঁকি রঙীন স্বপন দিয়ে।
স্বপ্নগুলো যায় যে মরে হৃদের কারাগারে,
ঢেউ জলেতে আসে ভেসে চক্ষু নদীর পারে।
চাঁদের আশায় চেয়ে থাকি চাঁদের নেই কো দেখা,
আনতাম তারে পেতাম যদি রঙীন দুটি পাখা।
চোখের জলে সময় যে যায় কষ্টগুলো বাড়ে,
আঁধার এখন জেগে আমার ছোট্ট কুড়েঘরে।
একলা আমি কষ্ট নিয়ে কেমন করে থাকি
ইচ্ছে করে হব আমি দুর আকাশের পাখি।
কাটবে আঁধার উঠবে জোছন নিয়ে রুপোর আলো
ছোট্ট কুড়েঘরে এসে বাসবে আমায় ভালো।

 

আনতে হবেই চাঁদ
ইসমাঈল হোসেন দিনাজী

ঈদের খুশি কোথায় গেল কোথায় ঈদের চাঁদ
চতুর্দিকে ছড়িয়ে যেন ক্লান্তি অবসাদ।
দখিন হাওয়ায় বেসুর বাজে গায় না পাখি গান
নিঝুম কালো দীঘল রাতের হয় না অবসান।
জালিমশাহির কয়েদখানায় ঈদের হেলাল বন্দী
কালোর সঙ্গে আলোর কভু হয় না তো ভাই সন্ধি।
আঁধার এবং আলোর মাঝে চলছে তুমুল যুদ্ধ,
চাঁদ-সেতারা কার ইশারায় বিনা দোষেই রুদ্ধ?
গোমড়ামুখো আকাশকোণে মেঘের আনাগোনা
পায় না খুঁজে ঈদের খুশি নতুন চাঁদের সোনা।
নতুন জামা নতুন টুপি আতর আতর গন্ধ
সবই আছে তবু যেন স্তব্ধ খুশির ছন্দ!
ঈদের খুশি উড়ছে দেখ প্রজাপতির ডানায়
ঈদগাহে আজ খুশির মেলা চাঁদ ছাড়া কি মানায়?
খুশির দিনে সবার মাঝে চাঁদটা নেমে আসুক
সবকে ভালোবাসুক সকল দুঃখজ্বরা নাশুক।
ভাঙতে হবে জেলের তালা আনতে হবেই চাঁদ
চলতে পথে দলতে হবেই পাহাড় সমান বাঁধ।

 

চাঁদের আলো- হৃদয় গলায়

চাঁদের গায়ে আলো হাসে
কালিতে তার কি বা আসে
জ্যোৎস্না বিলায় দরাজ হাতে
মেঘ কতটুকুই বা ঢেকে রাখে!
পূর্ণিমার ওই আলোর কিরণ
আলো করে সবারই মন
দাগগুলো তার কালো যত
অন্ধকারে আলো তত।
পাথর হ্রদয় থাক না যতই
অন্ধকারের কালোর মতই
চাঁদ যদি তারে হেসে বলে
পাথর হ্রদয় যায় যে গলে।
জ্যোৎস্না ভরা আলোর মেলায়
পাষাণ হ্রদয় একটু গলায়
কালো গুলো আলো করে
অন্ধকার সব যায় যে সরে।

চাঁদ নিয়ে কবিতা

চাঁদ নিয়ে কবিতা

চাঁদ আর আমি
আবু নাছের জুয়েল

আজ বহুদিন পর হঠাৎ আবার,
খোলা আকাশ,খালি বাড়ির ছাদ
আরও আছে দূর আকাশেৱ ,
আমার সব সময়ের সাথী ওই চাঁদ৷
বহু দিন পর আজ আবার দেখছি ওই চাঁদ,
যেমনি ছিল আজো আছে ঠিক তেমনি৷
আমার ছোট বেলায় মায়ের ঘুম পড়ানি
আয় আয় চাঁদ মামা কিংবা,
কোন গল্পে যেখানে,
সুতা কাটে চাঁদের ওই বুড়ি৷
একে একে আজ ছেড়ে গেল সাবই
মা, বাব, কাজলা দিদি ,আর ভাই৷
আজো আছি আমি আর ওই চাঁদ,
হারিয়েছি আপন অনেক,
হয়েছে আপন আনেকে,
নতুনের ভীড়ে পুরাতন আমি,
আছি শুধু যাবার আপেক্ষায়৷
বহু দিন পর একলা এ রাতে,
চাঁদটাকে দেখে শুধু হিংসে হয়,
চলে গেল মোর কত আপন জনা,
হারিয়েছি কত বন্ধন,
বহুদিন আগে ছিল যেমন চাঁদ,
আছে যেন আজো ঠিক তেমনি৷
রূপ আর যৌবনে কমেনি তো তার,
বেড়ছে বরং বেশি,
হারাবে না চাঁদ তুমি কখনো,
হারিয়ে যাব এই আমি৷

 

চাঁদের আলো
মোঃ নূর হোসাঈন হীরা

চাঁদ
তুমি চাঁদ তোমার মিষ্টি আলোয়
তুমি হাসি তোমার নিটল মায়ায়
তুমি আলো তোমার হাসিতে
তুমি মায়া তোমার আলোতে ।
চাঁদ,
তুমি অপূর্ব তোমার লিলুয়ায়
তুমি অপরূপ তোমার সৌন্দর্য্যে
তুমি অদম্য তোমার ধৈর্য্যে
তুমি মিত্যব‍য়ী তোমার কর্মে ।
চাঁদ,
তুমি মৃদু আলো তোমার ভালোবাসায়
তুমি অরণ্য তোমার সজীবতায়
তুমি পথিকের পথ চলা
তুমি দিন পঞ্জিকার দিকদর্শন ।
চাঁদ,
তুমি রাখো জোনাকি
তুমি ভাবো হাসি কি !
তুমি কাঁদাও কষ্টের ব্যথা
তুমি হাসাও অবাক করা ।
চাঁদ,
তুমি সুন্দর, তুমি পবিত্র এক লীলা ।
রেখো মোরে যেনো চলি তোমার আলোয়
পথে পথে, দূরে দূরে বহু দূরে ।
ভালোবাসি তোরে ।

চাঁদ
সৌমী শাঁখারী

চাঁদকে করতে চাই আমি নিশিরাতের কবিতা,
ভালোবাসার পরশ মেখে আমি;জানবো মোহমমতা।
পৃথিবীকে ভালোবাসতে বাসতে চাঁদ খুব ক্লান্ত,
আমার মনও বিরহের অলিতে গলিতে বিভ্রান্ত।

কুঁড়ে ঘরে চাঁদ দেয় অনেক আলো,
আমিও ডাকবো তাকে;বলবো প্রদীপ জ্বালো।
চাঁদের শুভ্র চমকে জাগে আঁখির পলক,
ক্ষণেক্ষণে পুলকে মাতে তাঁর রূপের ঝলক।

শুধুই জ্যোছনা নয়;সে যে মন জ্যোছনা,
তা কি তোমরা কখনও সত্যিই বোঝনা?

মন জ্যোছনা চোখের জলে মিলেমিশে একাকার,
চাঁদ আসবেই তো রাতের কাছে বারবার।

লক্ষ কোটি বছর ধরে চাঁদ এসেছে পৃথিবীতে,
ভেসে গেছে কতো মনভূমি চাঁদের আলোতে।
চাঁদের প্রেমাতুর রূপ দেখেছি আমি পূর্ণিমায়,
সে তো শুধুই একাকী হৃদয় কাঁদায়।

চাঁদের গায়ের দাগ যে বড়ই নিষ্কলঙ্ক,
ভেবোনা তাঁকে শুধুই সীতার সোনার মৃগাঙ্ক।
অনেক প্রেমের কবিতার জন্ম চাঁদের গায়ে,
রেখেছি আমিও মন চাঁদের পথে বিছিয়ে।

বেসেছি অনেক ভালো চাঁদের ওই নিঃসীম আলো,
চাঁদের দেশে হারাতে; মনকে বলেছি চলো।
চাঁদের ওই ঢলঢল রূপের সুরময়ী পদ্য,
কখন যেন হয়ে যাবে অলিখিত প্রেমের গদ্য।

পূর্ণিমার চাঁদ ও জোছনালোক
আরিফ চৌধুরী

অফুরান চাঁদের আলো জোছনা প্রহরে
যামিনী হতে না হতেই চাঁদ নীরবতা ভাঙ্গে
মাঠ,নদী, জোছনা প্রহরে জেগে ওঠে,
সোনামুখী ধান ক্ষেতে জোছনা দেয় ঘ্রাণ
জোছনা শব্দ বুনে যায় জুঁই ফুলের গন্ধমাখা প্রকৃতিতে ।
চন্দালোকিত রাতে চাঁদ দোলা প্রকৃতি সূতোর মতো
শুক্লা দ্বিতীয়ার চাঁদ, অমলিন চাঁদ আর জোছনার বিভা
ছাড়িয়ে আষাঢ়ের জল ভরা ধানের মাঠে চাঁদের দোলা
জোছনার নৃত্য মেলা উদ্বেলিত প্রাণে জেগে থাকে
পূর্ণচন্দ্রের আলো অতল রাত্রিতে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়
ধবল বকের মতো শুভ্র জোছনায়,
প্রেম, দু:খ, বিষাদ ,স্বপ্ন চাঁদ ঢেকে দেয় মথিত আলোয়।
কামরাঙা সুখ, জুঁই ফুলের ঘ্রাণ
জোছনা রাতে আনে যৌবন সুর,
অনুপম বিপন্নতাকে ঢেকে রাখে
অন্তহীন জোছনালোকে
জীবনের মায়াবী চাঁদ যখন হেলে পড়ে
আকাশ কুসুমিত জোছনায়।

জোছনা রাতে

এমনি কোন জোছনা রাতে
তাকিয়ে চাঁদের দিকে,
এত আলোর মাঝেও যে তোর
দৃষ্টি হবে ফিকে !!
এমনই সেই জোছনা রাতে
চাঁদটা যেমন জ্বলবে,
বরফ শীতল মনটা যে তোর
তেমন করেই গলবে !!
বুঝবি সেই জোছনা রাতে
না পেয়ে আমার দেখা,
চাঁদের মতই মোহনীয় তুই,
চাঁদের মতই একা !!”

চাঁদ নিয়ে কবিতা

চাঁদ নিয়ে কবিতা

চন্দ্র গ্রহণ

চাঁদের বুকে ম্লান করা অন্ধকারে
দীপ্তিতে ডুবে থাকা মানুষের হৃদয়
চন্দ্র পৃথিবী সূর্য যখন মুখোমুখি হয়
কত কত চন্দ্র বৎসর পরে !
ক্ষণিকের ছায়া প্রচ্ছায়া উপছায়া
গ্রাস হয়ে যাওয়া মাটির এই কায়া
রাত্রি গভীর হলে কি মধুর ছলে
অশান্ত সমুদ্র স্ফীত করতলে
জোয়ার ভাটায় রক্ত উঠে নামে
হৃদয়ের মাঝে হৃদয় এসে থামে,

পাংশু বিবর্ণ যদি হও রক্ত ক্ষরণে
হৃদয় কে সামলে রেখ হৃদয় গ্রহণে।

 

চাঁদের ভিতর চাঁদ ভাঙে
রুদ্র গোস্বামী

আমি চাই একটা চাঁদ উঠুক আমার আকাশে
আমার কষ্টে সে নিজেকে উজাড় করে কাঁদুক।
তার তিলের মতো কলঙ্ক থাকুক,
আলোর মতো রূপ থাকুক।
তার দিকে দেখতে দেখতে আমি ভাবি
সব থেকে সুন্দর দৃশ্যটি বুঝি এই ।
আমার তাকে দেখতে ভালো লাগুক।
তাকে ছুঁয়ে আমি বলি,
সে আমার ভীষণ রকম সুখ।
আমি চাই একটা চাঁদ উঠুক আমার আকাশে
তার জন্ম শুধু আমার জন্যে থাকুক।
তার মৃত্যু শুধু আমার জন্যে থাকুক।
তাকে পেয়ে আমি বলি,
তার জন্যে আমি এর আগেও বহুবার জন্মেছিলাম।
তার জন্যে আমার অপেক্ষা ছিল,অশ্রু ছিল।
অজস্র চিঠিতে তাকে আমি ভালবাসি লিখেছিলাম।
আমি চাই একটা চাঁদ উঠুক আমার আকাশে
তার আলো শুধু আমার জন্যে থাকুক।
তার কথা শুধু আমার জন্যে থাকুক।
এতো রূপের মধ্যে, এতো প্রাণের মধ্যে
সে শুধু আমাকেই ফিরে দেখুক
এমন তো নয় মেয়ে বলে কেউ রূপ খুঁজবো না
এমন তো নয় কালো মেয়ের চাঁদ ভাবতে নেই …।

জোছনা রাতের কবিতা
লক্ষ্মন চন্দ্র ভাণ্ডারী

আকাশ জুড়ে জোছনা ঝরিছে, চাঁদ উঠেছে হেসে,
কোটি তারকা জ্বালায় বাতি একসাথে মিলেমিশে।
জোছনা ঝরে নদীর জলে, নদীজল ঝিকিমিকি করে,
আকাশ জুড়ে আলোর খেলা জোনাকিরা কেঁদে মরে।

নিশুতি রাতে ঘুমোয় সারা গাঁ, তারারা শুধু জাগে,
চাঁদ হাসে আকাশের গায়ে, দেখতে ভালো লাগে।
পথের বাঁকে শেয়াল ডাকে, ঘুম ভাঙে মাঝরাতে,
মাধবী আর মালতী লতা, শুয়ে আছে এক সাথে।

চাঁদের আলো দেখতে ভালো মুক্তো ঝরে রাশি রাশি,
পাতায় পাতায় নিশির শিশির কথা বলে হাসি হাসি।
মনের গহনে প্রাণের স্পন্দন , বাঁধে প্রীতির বাসা,
রাত কেটে শেষে ভোর হয়, মনে জাগে নব আশা।

মায়াবী রাতে ঘুম নেই চোখে,আমি শুধু জেগে রই,
জীবনের খাতায় রচিয়া কবিতা,মনে হয় কবি হই।

চাঁদের আলো
রূপা আক্তার

চাঁদ তুমি দূরে থাক লক্ষ মাইল দূরে,
তোমায় আমি ভালবাসি হৃদয় উজাড় করে।
ছুঁইতে পারিনা তোমায় আমি দূরে থাক বলে
মন তোমাকে ছুঁয়ে যায় ভালবাসি বলে;
আঁখি দুটি মেলে রাখি তোমায় দেখব বলে….।
কখন তুমি দেখা দিবে দূর আকাশ পানে

চাঁদ তুমি দূরে থাক দূরেই লাগে ভাল,
পূর্ণিমা রাতে ছড়িয়ে দাও তোমার রূপের আলো।

সেই রূপেতে মুগ্ধ হয়ে
তোমায় বাসি ভাল;
চাঁদ তুমি দূরেই থাক ছড়িয়ে তোমার আলো।

1,591 total views, 2 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন