ঘুম কমানোর উপায় গুলো জেনে নিন

ঘুম কমানোর উপায় গুলো জেনে নিন
5 (100%) 2 votes

ঘুম কমানোর উপায় খুঁজছেন? হ্যাঁ তার সমাধান আছে। জানেন নিশ্চয়, অতিরিক্ত ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ঘুম শরীরকে চাঙ্গা করে পরবর্তী দিনের কাজের জন্য আমাদের তৈরি করে। যদি ভাল ঘুম না হয় তা হলে ঘুম ঘুম ভাব ধরে। এই ঘুম ঘুম ভাবকে বলা হয় হাইপারমোমনিয়া। অবসন্নতা, বিরক্তি, শক্তি কম পাওয়া ইত্যাদি এই সমস্যার লক্ষণ। ঘুম ঘুম ভাব হওয়ার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হওয়া। তবে বিষন্নতা, উদ্বেগ, মানসিক চাপ ইত্যাদিও ঘুম ঘুম ভাব হওয়ার কারণ। এছাড়া কিছু ঔষুধের জন্যও অনেক সময় ঘুম ঘুম ভাব হয়। ভালোভাবে না খাওয়া, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, ব্যায়াম না করা ইত্যাদিও ঘুম ঘুম ভাবের কারণ। তবে কিছু বিষয় মেনে চললে এটি কমানো যায়। কখন কাজ করবেন আর কখন ঘুমাবেন এই বিষয়ে রুটিন তৈরি করুন। ঘুমানোর জন্য যে সময় বাছবেন ঠিক সেই সময়ই ঘুমাতে যান। ঘুমের জন্য একটি পরিবেশ তৈরি করুন। ঘুম কমানোর উপায় জানতে নিচের লেখাটি পড়ুন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

ঘুম কমানোর উপায়

বেশি ঘুমানো কি

অতিরিক্ত ঘুমানো সংক্রান্ত অনেক গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৯ ঘন্টার বেশি ঘুমানোকে মানদন্ড হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে প্রায় সব ঘুম বিশেষজ্ঞ অতিরিক্ত ঘুমানো নির্ণয়ে দিনের বেলা তন্দ্রা বা ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

অতিরিক্ত ঘুমানোর কারন

▪হাইপোথাইরয়েডিজম
▪আয়রন কমার কারনে রক্তস্বল্পতা
▪অতিরিক্ত মোটা হওয়া
▪রাতে কম ঘুমানো
▪কিডনি রোগী
▪কিছু রোগ যেমন: অটোইমিউন রোগ, কিছু ভাইরাল রোগ
▪মাদকাসক্তি
▪জেনেটিক
▪অজ্ঞাত কারন
▪ঘুমে হঠাৎ নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা
▪ব্রেইন এর বিভিন্ন অসুখ
▪বিষন্নতা
▪চিকিৎসারত মৃগী রোগী
▪ফাইব্রোমায়ালজিয়া

অতিরিক্ত ঘুমানোর ক্ষতিকর দিক

▪হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া
▪ব্রেইন এর কাযকারিতা কমে যাওয়া
▪মোটা হয়ে যাওয়া
ডায়াবেটিস
▪মাথাব্যথা
▪মনযোগের অভাব ও কাজে পিছিয়ে যাওয়া

দুপুরে ঘুম কমানোর উপায়

দুপুরে একটু আয়েশ করে খাওয়া দাওয়া শেষে আমাদের একটু গড়িয়ে নেয়ার অভ্যাসটা বেশি। তাই দুপুরের পর আমাদের মধ্যে চলে আসে ঘুম ঘুম ভাব। বাসায় থাকলে হয়তো বিছানায় একটু গা এলিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু বাইরে থাকলে? যারা কর্মক্ষেত্রে থাকেন তাদের তাদের জন্য বেশ বিরক্তি বয়ে নিয়ে আসে এই ঘুম ঘুম ভাব। এই ঘুম ঘুম ভাবটি যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ কোনো কাজই ঠিকমতো হয় না। সব কিছুই পিছিয়ে পড়ে। রাতে অবশ্যই আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি। রাতে পুরো ঘুম না হলে তার এফেক্ট পড়তে পারে পরের দিন দুপুরে। আর তখনই ভাতঘুম আপনাকে কাবু করে ফেলবে। এই অস্বস্তিকর ঘুম ঘুম ভাব দূর করার এবং ঘুম কমানোর উপায় জেনে নিন।

▪পেট ভরে লাঞ্চ বাদ দিন।
▪দুপুরে মেনু হোক সীমিত।
▪বাড়িতে হোক বা বাইরে দুপুরে ভাতের বদলে রুটি ট্রাই করুন।
▪পেট বেশি ভরে থাকলে ঘুম পাওয়ার সম্ভবনা বেশি। তাই পেট হাল্কা রেখে খান।
▪দুপুরে আয়রন জাতীয় খাবার বেশি খান।
▪খাওয়ার ১০-১৫ মিনিট পর পরিমাণ মতো পানি খান। দেহে পানির পরিমাণ ব্যালেন্স থাকলে ঘুম কম পাবে। ঘুম কমানোর উপায় হিসাবে এটি কাজে দেবে।
▪চিনি জাতীয় খাবার একটু কম খান। এই ধরনের খাবারে প্রথমে এনার্জি পাওয়া গেলেও কিছু ক্ষণের মধ্যেই তা শরীরকে ক্লান্ত করে ফেলে।
▪বেশি পরিমাণে টাটকা সবজি, টক দই খান।
▪দুপুরে খাওয়ার ১৫-২০ মিনিট পর হাল্কা পায়ে হেঁটে নিন। এতে ঘুম তাড়ানো সহজ হবে। এতেও ফল না পেলে কাজের ফাঁকে সময় বুঝে ১৫ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ নিয়ে নিন। ঘুম কমানোর উপায় হিসাবে এটি দারুণ কার্যকারী।
▪বাড়িতে থাকলে দুপুরের ঘুম তাড়াতে পছন্দের হবি ফিরিয়ে আনুন। বই পড়া, গান শোনা বা সেলাই করার মতো পছন্দের কাজ করার জন্য দুপুরের সময়টা বেছে নিন। তাতে ঘুমও পাবে না। আর মনও ভাল থাকবে।

বিভিন্ন ভাবে ঘুম কমানোর উপায়

▪পানি ঘুম ঘুম ভাব দূর করার সব চাইতে ভালো ঔষধ। পানি পান করলে আমাদের দেহের কোষগুলো নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। এক গ্লাস পানি পান করে নিন। দেখবেন ঝিম ঝিম ঘুম ধরা ভাব কেটে গিয়েছে। এরই সাথে পানি পান করলে মস্তিষ্ক নতুন করে কাজ করার জন্য তৈরি হয়ে যায়।

▪চা/কফি ঝিম ভাব দূর করার জন্য সব চাইতে কার্যকর একটি পানীয়। দুপুরের খাবারের শেষে এক কাপ চা/কফি খেলে এক নিমেষে দূর হবে ঝিম ধরা ভাব। চা/কফির ক্যাফেইন আমাদের মস্তিষ্ককে সজাগ রাখতে বেশ কার্যকর। ব্যস, এক কাপ চা/কফি আর আপনি সম্পূর্ণ সজাগ। ঘুম কমানোর উপায় হিসাবে এটি অনেক পুরাতন পদ্ধতি।

▪বসে থাকলে কিংবা চেয়ারে একটু গা এলিয়ে পড়ে থাকলে ঘুম ঘুম ভাব আরো জাঁকিয়ে বসে। তাই উঠে পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও হাঁটুন। এতে শরীরের আলস্য কেটে যাবে। আর ঘুম ঘুম ভাবও দূর হবে। চোখে মুখে পানি দিন। চোখে পানির ঝাপটা দিন। চোখে মুখে ঠাণ্ডা পানির একটু ঝাপটা দিলে আমাদের মাথা ঝিম ধরা এবং শরীরে অলসভাব একেবারে দূর হয়ে যায়। ঘুম কমানোর উপায় হিসাবে এটি দারুণ কার্যকারী।

▪আপনি যদি ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে চুপচাপ কাজে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন তাহলে কখনোই এই ঝিম ধরা ভাবটি যাবে না। কারণ এতে করে আপনার আলস্য কাটানোর কোন কাজই হচ্ছে না। দুপুর পরের এই অস্বস্তিকর ভাব থেকে উঠতে চাইলে কলিগ বা সহপাঠীর সঙ্গে ৫-১০ মিনিট কথা বলতে পারেন। আমরা যখন কথা বলি বা কোনো কিছু নিয়ে আলোচনা করি তখন আমাদের মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে থাকে। তাই অল্প কিছুক্ষণ কথা বলে দেখুন।

▪সারাদিন অল্প অল্প করে চার থেকে পাঁচবার খাবেন, বেশি খাবার ঘুম বাড়ায়। তাই বেশি খাবার সম্পূর্ণ রুপে বর্জন করুন।

▪প্রতিদিন আধাঘন্টা ব্যায়াম করুন, ঘুমানোর আগে হাঁটুন।

▪নেশাজাতীয় দ্রব্য বর্জন করুন।

▪লাল মাংস, মিষ্টি, ভাত, আম এগুলো ঘুম বাড়ায়। যথাসম্ভব বর্জন করুন।

▪সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ গ্রিন টি পান করতে পারেন। লেবু পানি ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে কাজ করে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং শরীরকে আর্দ্র রাখে। দিনে দুই থেকে তিন বার এই পানীয় খেতে পারেন।

পরিশেষে – এই সমস্যার প্রতিকার করতে অবশ্যই ডাক্তার দেখিয়ে কারন বের করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

57 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন