ঘরোয়া টিপস – শরীরের নানা সমস্যার জন্য ঘরোয়া টিপস

ঘরোয়া টিপস – শরীরের নানা সমস্যার জন্য ঘরোয়া টিপস
5 (100%) 1 vote

ঘরোয়া টিপস জানা থাকলে শরীরের ছোটখাট নানা সমস্যার সমাধান করতে পারবেন সহজেই। শরীরের যত্নে ঘরোয়া টিপস খুবই কার্যকারী। বর্তমান যুগে আমাদের ওষুধ ছাড়া যেন একটা দিনেও শেষ হতে চায় না। আজকাল আমরা অ্যালোপ্যাথিক মেডিসিনকে এতটাই ভালবেসে ফেলেছি যে রোগ সারাতে সহজ, ঘরোয়া টিপস পদ্ধতির দিকে নজরই দেওয়ার সময় নাই। কিন্তু বেশী পরিমাণে ওষুধ খাওয়া শরীরের পক্ষে একেবারেই ভাল নয়। তাই আজ এমন কয়েকটি ঘরোয়া টিপস পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল, যা পড়তে পড়তে আপনার চোখ কপালে উঠে যাবে। কারণ দৈনন্দিন জীবনে যে সব সমস্যায় আমরা ভুগে থাকি, সেগুলির প্রকোপ কমাতে বাস্তবিকই ওষুধ খাওয়ার কোনও প্রয়োজন পরে না। সেক্ষেত্রে ঘরোয়া টিপস আপনার শরীর চাঙ্গা করতে কাজে লাগবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

ঘরোয়া টিপস

ঘরোয়া টিপস (১) – বর্ষা বা শীতকালে হাসি-কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে পেঁয়াজ দারুন কাজে আসে। মানে, পেঁয়াজের সঙ্গে সর্দি কাশির কী সম্পর্ক? একাধিক পরীক্ষার পর একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে সর্দি-কাশিতে যখন নাক বন্ধ থাকে, তখন যদি দু’টুকরো পেঁয়াজ বালিশের পাশে রেখে ঘুমানো যায়, তাহলে এক রাতেই সর্দির প্রকোপ অনেকটা কমে যায়।

ঘরোয়া টিপস (২) – মশার কামড়ে জীবন দুর্বিষহ। সেই সঙ্গে সারা গায়ে লাল চাকা চাক দাগ। কোনো চিন্তা নেই, এবার থেকে মশা কামড়ালেই সে জায়গায় অল্প করে ডিওডরেন্ট স্প্রে করে দেবেন, তাহলেই দেখবেন নিমেষে জ্বালা ভাব কমে যাবে।

ঘরোয়া টিপস (৩) – নানা কারণে যাদের রাতের বেলা ঘুম আসতে চায় না, তারা শোয়ার আগে নিয়ম করে ঠান্ডা পানিতে গোসল করা শুরু করুন। দেখবেন ঘুম আসতে কোনো সমস্যাই হবে না। সেই সঙ্গে স্ট্রেসও কমবে। আসলে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ফলে ঝঠপট ঘুম এসে যায়। অন্যদিকে ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে আসার কারণে সারা শরীরে রক্ত প্রবাহও বেড়ে যায়, যে কারণে স্ট্রেসও কমতে শুরু করে।

ঘরোয়া টিপস (৪) – মন খারাপ হলে চোখে পানি এসেই যায়। আর কান্না যে মনের ভারকে অনেকটাই হালকা করে, সে বিষয়ে তো কোনও সন্দেহই নেই। কিন্তু ইচ্ছা হলেও যখন চোখের পানি বাগ মানতে চায় না তখন? কোনো চিন্তা নেই, সেক্ষেত্রে পলক না ফলে চোখ দুটি কিছুক্ষণ খুলে রাখুন। তাহলেই দেখবেন কান্না থেমে গেছে।

ঘরোয়া টিপস (৫) – সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ঘরে? সেই সঙ্গে দুর্বলতা যেন শরীরকে ছাড়তেই চায় না? তাহলে এবার থেকে ঘুম ভাঙার পর ডান পাটা প্রথমে মেঝেতে রাখবেন। তাহলেই দেখবেন এমন সব অসুবিধা আর হবে না। আসলে ডান পা মাটির সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেন খুব অ্যাকটিভ হয়ে যায়। ফলে মাথা ঘোরাসহ নানাসব শারীরিক সমস্যা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

ঘরোয়া টিপস (৬) – রাস্তা ঘাটে হঠাৎ প্রস্রাবের বেগ চেপে যাওয়াটা খুব সাধারণ একটি ঘটনা। এক্ষেত্রে বেশির ভাগই গাছের তলায় নয়তো দেওয়ালের কোণে গিয়ে হাল্কা হওয়ার চেষ্টায় লেগে যান। কিন্তু যেখানে এমন সুযোগ নেই, সেখানে কী করবেন? কোনো চিন্তা নেই! সেক্ষেত্রে মনে মনে প্রিয় মানুষটার কথা ভাবার চেষ্টা করুন অথবা তার সঙ্গে কাটানো বিশেষ কোনো সময়ের কথা ভাবুন, তাহলেই দেখবেন প্রস্রাবের বেগ একেবারে কমে যাবে।

ঘরোয়া টিপস (৭) – কাজের চাপ বা অস্থিরতা থেকে যে মাথাব্যথা হয় এমন ব্যথায় সর্ষে থেকে তৈরি পাঁচ চামচ আটা ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে নিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন৷ তারপর একটি পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে ভেজা আটা সুন্দর করে ভরে ঠিক ঘাড়ের ওপর দিয়ে রাখুন এবং তার ওপর অন্য একটি শুকনো কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে ১৫ মিনিট পেচিয়ে রাখুন৷ এভাবে দিনে একবার করলেই চাপ বা স্ট্রেসের মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন৷

ঘরোয়া টিপস (৮) – শরীরের তামপাত্রা ৩৭.৮-এর বেশি হলে তা কমাতে পাতলা কাপড় কুসুম গরম পানিতে ডুবিয়ে নিন৷ তা পায়ে, অর্থাৎ হাটুর নীচ থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ভালো করে পেচিয়ে নিন৷ এরপর তার ওপর একটি গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন৷ দেখবেন জ্বর কমে যাবে। শিশুদের অল্প জ্বর হলে জার্মানরা এই নিয়মটি মেনে ওষুধ ছাড়াই জ্বর কমিয়ে থাকেন৷

ঘরোয়া টিপস (৯) – আলু অনেকক্ষণ গরম ধরে রাখতে পারে। তাই কাশির ক্ষেত্রে আলুই বেছে নিন। ৫-৬টা আলু খোসাশুদ্ধ সেদ্ধ করে নিন। তারপর একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে আলুগুলো খানিকটা চটকে কাপড়ে মুড়িয়ে নিন৷ মোড়ানো আলু বুকের ওপর রেখে তার ওপর একটি কম্বল বা মোটা কাপড় পেচিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট৷ আলুর গরম ভাপ নিঃসন্দেহে বুকে আরাম দেবে৷

ঘরোয়া টিপস (১০) – পেটকে শান্ত করে ভেজা গরম চাদর। যে কোনো অস্থিরতা বা ‘নার্ভাসনেস’ কিন্তু প্রথম পেটেই ধরা পড়ে৷ অর্থাৎ পেট হয় অশান্ত, হয় বদহজম৷ এই অবস্থায় একটি সাধারণ চাদর ৪০ সেন্টিমিটার চওড়া করে ভাঁজ করে গরম পানিতে ডুবিয়ে নিন৷ তারপর পানি চিপে ফেলে পুরো পেটে ভাঁজকরা চাদরটা ভালো করে পেচিয়ে নিন৷ তার ওপর একটি নরমাল চাদর এবং তার ওপর কম্বল দিয়ে পেচিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন, দেখবেন পেট একেবারে শান্ত!

ঘরোয়া টিপস (১১) – অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করার পর পায়ে কেমন যেন ব্যথা হয়৷ আর সেই ব্যথার উপকার করবে গরম লবণ৷ ২০০ গ্রাম লবণ হাড়িতে খুব সাবধাণ ভাবে গরম করুন, যেন কোনো ভাবেই না গলে যায়৷ গরম হলে একটি লম্বা কাপড়ে মুড়িয়ে পায়ে পেঁচিয়ে নিন এবং তার ওপর অন্য একটি তোয়ালে দিয়ে বেধে রাখুন৷ এভাবে ৪-৫ বার করলেই দেখবেন অনেকটা আরাম হচ্ছে৷

ঘরোয়া টিপস (১২) – ঘাড় ব্যথা কমায় বাঁধাকপির পাতা। বাঁধাকপির একটি বড় পাতা ধুয়ে সেটাকে বেলে নিন, যতক্ষণ না পাতা থেকে রস বের হয়৷ তারপর পাতাটি ঠিক ব্যথার জায়গায় দিয়ে একটি কাপড় দিয়ে জড়িয়ে নিন৷ তার ওপর একই নিয়মে গরম একটি কাপড় দিয়ে ভালো করে সারা রাত জড়িয়ে রাখুন৷ ব্যথা কতটা কমেছে তা সকালে অবশ্যই টের পাবেন

ঘরোয়া টিপস (১৩) – ঋতু পরিবর্তন বা শীতকালের হঠাৎ গরম বা ঠান্ডায় গলা ব্যথা খুবই স্বাভাবিক৷ এই ব্যথা লাঘবের জন্য এক টেবিল চামচ লেবুর রস এক কাপ ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে নিন৷ এতে একটি পাতলা পরিষ্কার কাপড় ডুবিয়ে এবার পানিটুকু চিপে নিন৷ তারপর গলায় ভেজা কাপড়টি পেচিয়ে তার ওপর একটি গরম মাফলার জড়িয়ে ৩০ মিনিট রাখুন৷ ফলাফল নিজেই দেখবেন!

অ্যাসিডিটি দূর করার ঘরোয়া টিপস

অ্যাসিডিটির সমস্যায় কম বেশি সবাইকেই ভুগতে হয়। এটি একটি সাধারণ সমস্যা। আমাদের পাকস্থলিতে অতিরিক্ত বা ভারসাম্যহীন এসিড উৎপন্ন হওয়ার ফলে পেট ব্যথা, গ্যাস, বমিবমি ভাব, মুখে দুর্গন্ধ বা অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত বেশি ঝাল খাবার খাওয়া, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, দুঃচিন্তা, ব্যায়াম না করা বা অতিরিক্ত মদ্য পানের ফলে অ্যাসিডিটি হতে পারে। এই অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তির জন্য অনেকেই ঔষধের দ্বারস্থ হন, কেননা আমরা জানি না যে ঔষধ ছাড়াও শুধু রান্নাঘর ও ফ্রিজে রাখা কিছু খাবারের মাধ্যমেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নেই অ্যাসিডিটি নিরাময়ের কিছু ঘরোয়া টিপস।

গরম পানি – সাধারণত কুসুম গরম পানি রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে খেলে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

দারুচিনি – হজম ক্রিয়ার জন্য খুবই ভাল, এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড যা পেটের গ্যাস দূর করে। এক কাপ পানিতে আধা চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে দিনে ২/৩ বার এটা খেতে পারেন। এছাড়া চাইলে সুপ/সালাদে দিয়েও খেতে পারেন।

পুদিনা পাতা – এর বায়ুনিরোধক ও প্রশান্তিদায়ক গুণ নিমিষেই বুক ও পেট জ্বালাপোড়া করা, পেট ফাঁপা ও বমি ভাব উপশম করে। তাই অ্যাসিডিটির লক্ষণ দেখা দিলেই কয়েকটি পুদিনা পাতা মুখে নিয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে হবে বা খেতে পারেন চা বানিয়ে। এক কাপ পানিতে ৪/৫ টি পুদিনা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে খেতে পারেন বা চাইলে তাতে একটু মধুও যোগ করতে পারেন।

মাঠা – এতে থাকা ল্যাক্টিক এসিড পাকস্থলির এসিডকে স্বাভাবিক করে। সারাদিনে কয়েকবার শুধু মাঠা খেলে বা সাথে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়া অথবা এক চা চামচ ধনেপাতার রস মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায় আবার আধা থেকে এক চা চামচ মেথি সামান্য পানি দিয়ে পেস্ট করে এক গ্লাস মাঠার সাথে মিশিয়ে খেলে অ্যাসিডিটির পেট ব্যথা দূর হয়।

আপেল সাইডার ভিনেগার – এর ক্ষারধর্মী প্রভাব পাকস্থলীর এসিডিটির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ১-২ চা চামচ অশোধিত ভিনেগার এক কাপ পানিতে মিশিয়ে খাবার আগে বা দিনে এক বা দুইবার খেতে পারেন।

লবঙ্গ – লবঙ্গ পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি ও গ্যাস দূর করতে পারে এর বায়ু নিরোধক ক্ষমতার জন্য। ২/৩ টি লবঙ্গ মুখে নিয়ে চুষলে বা সমপরিমান এলাচ ও লবঙ্গ গুঁড়া খেলে অ্যাসিডিটির জ্বালা এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। ঘরোয়া টিপস হিসাবে এটা ফলো করলে দারুণ ফল পাবেন।

জিরা – পাকস্থলীর এসিডকে নিরপেক্ষ করে পেটের ব্যথা দূর করতে এবং হজমক্রিয়ায় জিরা চমৎকার কাজ করে। দেড়কাপ পানিতে এক চা চামচ করে জিরা, ধনে ও মৌরী গুঁড়া এবং সামান্য চিনি মিশিয়ে খালি পেটে খেতে পারেন অথবা এক গ্লাস পানিতে সামান্য জিরার গুঁড়া মিশিয়ে বা ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে প্রতিবেলা খাবার পর খেতে পারেন।

আদা – আদার রস পাকস্থলীর এসিডকে প্রশমিত করতে সাহায্য করে। অ্যাসিডিটির সময় এক টুকরো আদা মুখে নিয়ে চুষলে বা এক কাপ পানিতে কয়েক টুকরো আদা দিয়ে কিছুক্ষন ফুটিয়ে রেখে খেতে পারেন কিংবা শুধু এক চা চামচ করে আদার রস দিনে ২/৩ বার খেলে অ্যাসিডিটির থেকে মুক্তি পেটে পারেন। আদা খাওয়ার নিয়ম জানা থাকলে অনেক সমস্যা থেকেই মুক্তি পাবেন।

তালের গুড় – তালের গুড় খাবারকে হজমে সাহায্য করে এবং হজমক্রিয়াকে ক্ষারধর্মী করে অ্যাসিডিটি কমায়। প্রতিবেলা খাবার পর ছোট এক টুকরো গুড় মুখে নিয়ে চুষতে থাকবেন যতক্ষন না অ্যাসিডিটির জ্বালা কমে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য এটা প্রযোজ্য নয়।

মৌরী – মৌরীর রয়েছে বায়ু নিরোধক ক্ষমতা যার ফলে খাবার হজম করতে এবং পেটের গ্যাস দূর করতে এটা বেশ কার্যকরী। ভারী ও ঝাল খাবারের পর কিছু মৌরী মুখে দিয়ে চুষতে পারেন। আবার এক বা দুই চা চামচ মৌরী এক কাপ গরম পানিতে দিয়ে কিছুক্ষন রেখে ছেঁকে নিয়ে দিনে কয়েকবার খেতে পারেন।

ঠাণ্ডা দুধ – পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক এসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে এসিডিটি থেকে মুক্তি দেয় দুধ। দুধে থাকা ক্যালসিয়াম পাকস্থলীতে এসিড তৈরিতে বাধা দেয়। শুধুমাত্র এক গ্লাস ঠাণ্ডা দুধ পান করেই এসিডিটির সমস্যা প্রতিরোধ বা উপশম করা সম্ভব।

সাবধানতা – পরবর্তীতে যখনই আপনি এসিডিটির সমস্যায় পরবেন তখন এই পদ্ধতি গুলোর সাহায্য নিয়ে দেখতে পারেন কিন্তু যদি দেখেন ২/৩ দিন পরও আপনার সমস্যা থেকেই যাচ্ছে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

99 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন