গরম করে খাওয়া উচিত নয় যেসব খাবার

গরম করে খাওয়া উচিত নয় যেসব খাবার
4.8 (95%) 4 votes

গরম খাবার খেতে আমরা সবাই ভালোবাসি। অনেকেই সময়ের অভাবে যে কোন খাবারই গরম করে খান।আধুনিকতার এই যুগে ওভেনে একেক সময়ে খাবার গরম করে খাওয়াটা কোনো ব্যাপারই নয়। কিন্তু এই চর্চাটি কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? আর এভাবে খাবার গরম করে খেলেও তা শরীরে কতটা ক্ষতি করতে পারে তা জানা দরকার। বেশিরভাগ মানুষেরই সময়ের বড় অভাব। আমরা সাধারনত বাসায় রান্না করার পরে সময় বাঁচানোর জন্য সেই খাবার আবার পরের দিনের জন্য রেখে দেই, আবার সেই খাবার পুনরায় গরম করেই খাই। কিন্তু সেই খাবার পুনরায় গরম করে খাওয়া অনেক ক্ষতিকর, এতে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। আর আমরা এমন কিছু খাবার আছে যা প্রতিদিন পুনরায় গরম করে খাচ্ছি যা মোটেই গরম করে খাওয়া উচিৎ নয়। জেনে নিন কোন কোন খাবার গরম করে খাবেন না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

ডিম – শরীরের বিভিন্ন ঘাটতি পূরণের জন্য চিকিৎসকরা ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে আপনিও নিশ্চয়ই **ডিম** খাচ্ছেন? কিন্তু আগে থেকে সেদ্ধ করা ডিম দ্বিতীয়বার গরম করবেন না। পেটের জন্য ক্ষতিকর।

আলু – আলু সবসময় তাজা খাওয়া উচিৎ। ফ্রিজে রাখা নয়, বরং ঘরের তাপমাত্রায় রাখুন। এ ছাড়া আলুর তৈরি কোনো খাবার গরম করে খাবেন না।

মুরগির মাংস – যেভাবেই বা যত সুস্বাদু করেই মুরগির মাংসের কোনো আইটেম বানানো হোক না কেন, রান্নার পর তা পুনরায় গরম করা হলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। রেফ্রিজারেটারে রাখা রান্না করা মুরগির মাংসের আইটেম পুনরায় গরম করে খেলে তা মুরগির মাংসে থাকা প্রোটিনের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে দেয়। আর এর ফলে হজমশক্তিতে ব্যাঘাত ঘটে। প্রোটিনের পরিবর্তিত বৈশিষ্ট্য অ্যামাইনো ও মাংসে থাকা নাইট্রেটকে একত্রিত করে নাইট্রোসেমিন তৈরি করে যা ক্যান্সার হওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত। খাওয়ার পর যদি কিছুটা রয়ে যায়, তবে তা রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন। যদি গরম করে খেতেই হবে তবে চুলায় অল্প আঁচে একটু বেশি সময়ের জন্য গরম করে নিন। এছাড়াও রেফ্রিজারেটর থেকে বের করে অনেকটা সময়ের জন্য রেখে দিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসলে তারপর খেতে পারেন।

বিট – বিট হলো আরও একটি খাবার যার মধ্যে নাইট্রেট রয়েছে। পুনরায় গরম করা হলে এই নাইট্রেটগুলো নাইট্রিটে রুপান্তরিত হয় এবং এর ফলে পেট খারাপ হয় ও হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই খাওয়ার পর কিছুটা রয়ে গেলেও পুনরায় গরম না করে খাওয়ার কিছুক্ষণ আগে বের করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসলে তারপর খান।

সেলরি – স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই সবজিটি পুনরায় গরম করে খেলে বিষাক্ত হয়ে যেতে পারে। সেলরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রেট, যা পুনরায় গরম করার ফলে বিষাক্ত হয়ে যেতে পারে। পুনরায় গরম করার ফলে এতে থাকা নাইট্রেটগুলো নাইট্রিটে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং ক্যান্সারজনিত পদার্থ উৎপন্ন করে যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই সেলরি দিয়ে যদি আপনি কোনো ধরনের স্যুপ পুনরায় গরম করে খেতে হলে আগে তা থেকে সেলরিগুলো ফেলে দিয়ে তারপর গরম করে নিন।

মাশরুম – সমস্ত সবজির মতো মাশরুমও তাজা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। রান্না করার পর মাশরুম দ্বিতীয়বার গরম করলে তার মধ্যে থাকা সমস্ত প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায়। এবং তার পরিবর্তে ক্ষতিকর উপাদানের জন্ম হয়। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

পালং শাক – পালং শাক হলো অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও নাইট্রেট। রান্নার পর এটি পুনরায় গরম করে খেলে পুষ্টিকর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং বিষাক্তও হয়ে যায়। এছাড়াও এর ফলে পালং শাকে থাকা নাইট্রেট ভেঙে নাইট্রাইট ও অন্যান্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থের জন্ম দেয়। এই যৌগগুলো মেথেমোগলোবিনেমিয়ার উপস্থিতি ঘটায়, যা শরীরে অক্সিজেনের মাত্রায় প্রভাব ফেলে এবং এর ফলে পেট খারাপ হয়। এই নাইট্রাইটগুলো নাইট্রোসেমিনে রূপান্তরিত হতে পারে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই খাওয়ার পর কিছুটা রয়ে গেলে তা ফেলে দেয়াই ভালো। দ্বিতীয়বার পুনরায় গরম করে খাওয়ার অভ্যাসটা এড়িয়ে যাওয়া উচিত। আর যদিও পুনরায় গরম করে খেতে হয়, তবে রান্নার পরপরই ঠাণ্ডা করে নিতে হবে এবং ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রায় একে সংরক্ষণ করতে হবে। এতে করে নাইট্রেটকে নাইট্রোসেমিনে রূপান্তরিত হওয়ার বিষয়টি প্রতিরোধ করা যাবে।

ভাত গরম করে খাওয়া কি ঠিক

কর্মজীবীদের রান্নাবান্নার পেছনে খুব বেশি সময় ব্যয় করার সুযোগ হয় না অনেক সময়। একদিন রান্না করে সেটা বেশ কয়েকদিন ফ্রিজে রেখে খাই আমরা। আবার সকালে ভাত রান্না করে সেটি রাতে গরম করে খাই। তবে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কেবল গরম ভাত খেলেই হবে না, খেতে হবে টাটকা ভাত। এমন তথ্য জানিয়েছে ব্রিটেনের ‘ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি’র একটি গবেষণা। সকালের রান্না ভাত রাতে গরম করে খাওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছে গবেষকরা। গবেষণা মতে, ভাত রান্নার পর যদি দীর্ঘ সময় সাধারণ তাপমাত্রায় সেটা রাখা থাকে তাহলে ‘ব্যাসিলাস সিরিয়াস’ নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে থাকে। সেই ভাত পুনরায় গরম করা হলেও ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয় না। এটা খেলে ডায়েরিয়া এবং বমি হতে পারে। ভাত সংরক্ষণ করতেই হলে সেটি ফ্রিজে রাখুন, তাও নিয়ম মেনে। ভাত রান্না হওয়ার একঘণ্টার মধ্যেই সংরক্ষণ করুন। ৪ থেকে ৬ দিন পর্যন্ত মুখবন্ধ পাত্রে সংরক্ষণ করতে পারেন ভাত। ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করার সময় চামচের সাহায্যে ভালো করে ভেঙে নেবেন ভাতের দলা। কমপক্ষে ৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করে তবেই পরিবেশন করবেন ফ্রিজে রাখা ভাত।

280 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন