খারাপ ছবি দেখলে আপনার ধ্বংস অনিবার্য

খারাপ ছবি দেখলে আপনার ধ্বংস অনিবার্য
5 (100%) 4 votes

খারাপ ছবি বা পর্ণ দেখে বর্তমানে অনেক ছেলে মেয়েই। এখন খারাপ ছবি দেখাটা আমাদের কাছে ভীষণ স্বাভাবিক একটা ব্যাপার হয়ে গেছে। আর এ প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের খারাপ ছবি দেখার প্রতি আসক্তি এক ভয়াল নেশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারো তেরো থেকে শুরু করে অনেক মধ্য বয়সী পুরুষও পর্ণগ্রাফি আসক্তিতে ভুগছেন। আপনার মনের অজান্তেই আপনি হারিয়ে যাচ্ছনে নীল দুনিয়ায়। নিয়মিত খারাপ ছবি দেখার মাধ্যমে নিজের অজান্তেই আমরা নিজেদের অনেক ক্ষতি করে ফেলছি। যে ক্ষতির জন্য লাইফে অনেক সমস্যায় ভুগতে হয়। পর্ণগ্রাফি বা খারাপ ছবি আসক্তি একটি যুদ্ধ। এ যুদ্ধ নিজের সাথে নিজের, বাতিলের সাথে ইসলামের।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

খারাপ ছবি

আপনি কি খারাপ ছবি দেখতে আসক্ত

আপনি কিভাবে বুঝবেন যে, আপনি খারাপ ছবি বা পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত কিনা? পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তি সবর্দা নারীদের প্রতি দুর্বল থাকেন। রাস্তায় চলতে গেলে তার চোখকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। নারীর বিভিন্ন অঙ্গের প্রতি  তার নজর যাবেই। রাস্তার বিল র্বোড গুলো সে দেখবে তাতে কোন নারীর ছবি দেখা যায় কিনা। এমনকি তার নিকট আত্মীয় দেখলেও সে সুনজর দিতে পারে না। তার মাথায় সর্বদা খারাপ ছবি সংক্রান্ত চিন্তা থাকে আর চোখ সব সময় তা দেখার জন্য ব্যাকুল থাকে। আপনি যখন একা একা রুমের ভিতরে ল্যাপটপ/ মোবাইল চালাবেন তখন আপনার মন বলবে আজকে একটু দেখি কাল থেকে আর এসব বাজে জিনিস দেখব না। আপনি প্রথমে দেখলেন ইন্ডিয়ান খারাপ ছবি তারপর আপনার মন বলবে এবার বাংলাদেশের দেখিতো। এবার আমেরিকা খারাপ ছবি দেখি কেমন দেখতে। ২০ বছরের মেয়েদের দেখি কেমন লাগে। এভাবে আপনি দেশ, বয়স, নামী দামি পর্ণস্টার ও ইংলিশ, বাংলা ও হিন্দি নায়িকাদের বিভিন্ন হট ছবি দেখতে গুগুলে সার্চ দিবেন আর হঠাৎ আপনার কানে আসবে ফজরের আজান আর আপনি তখন বালিশ জড়িয়ে ধরবেন অথবা অন্য উপায়ে আপনার জৈবিক চাহিদার খায়েশ মেটাবেন। আর মনে মনে তওবা করবেন আর কখনো দেখবেন না কিন্তু আপনি পারবেন না, কেননা আপনি তাতে আসক্ত হয়ে গেছেন। আপনার মন বলবে তুইতো খারাপ কিছু করছিস না শুধু নিজের ঘরে  বসে নিজের টাকা খরচ করে খারাপ ছবি দেখিস এতে তেমন ক্ষতি নেই। রাস্তাঘাটে তো কোন মেয়েকে ধর্ষণ করিস নি। কিন্তু বাস্তবতা হলো আপনি ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছেন। আপনার মধ্যে মানসিক দুর্বলতা চলে আসবে। নিজেকে অপরাধী মনে হবে। কোন সৎ লোকের সাথে কথা বলতে আপনি ভীত থাকবেন। আপনার মধ্যে স্বাভাবিক মানবতাবোধ টুকু নষ্ট হয়ে যাবে। আপনি একজন দায়িত্বহীন পুরুষে পরিণত হবেন। ঘরে আপনার স্ত্রী, সন্তান অসুস্থ থাকলেও আপনার মন কাঁদবে না। সামাজিকতা বলতে আপনার কাছে কিছু থাকবে না। আপনি একা থাকতে ভালবাসবেন। এসব লক্ষণ যদি আপনার মধ্যে থাকে তবে আপনি একজন পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তি। সুতরাং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিন দেখেন  জয়ী হতে পারেন কিনা।

খারাপ ছবি দেখার ক্ষতিকর দিক

যখন আপনি খারাপ ছবি দেখছেন বা বাংলা চটি পড়ছেন, আপনার ভিতরে কিন্তু পরিবর্তন আসছে। আপনি যা দেখছেন বা পড়ছেন, বিষয়টি আপনার ব্রেইনে যাচ্ছে। মানুষের ব্রেইন কিন্তু এমন এক বিষয়, পিসির সিপিইউর মতো কমান্ড দিলে না, না দিলেও স্বয়ংক্রিয় ভাবে কাজ করে। কি রকম?? আপনার চোখের সামনে আচমকা একটি মাছি এলো, এবং আপনার হাত আপনার চোখের সামনে যাওয়ার আগেই আপনার চোখের পর্দা বন্ধ হয়ে গেল। বিষয়টি কিন্তু স্বয়ংক্রিয় ভাবেই ঘটেছে আপনার ব্রেইনের দ্বারা। এরকমই, আপনি যা দেখছেন বা পড়ছেন, বিষয়টি আপনার ব্রেইনে যাচ্ছে, এবং ব্রেইন সেটাকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে প্রক্রিয়া করন করে আপনার ভিতর তার প্রতিক্রিয়া বিস্তার করছে। কি রকম প্রতিক্রিয়া? আপনি খারাপ ছবি দেখছেন বা অশ্লীল গল্প পরছেন বা অশ্লীল কিছু নিয়ে ভাবছেন, ভাবনাটা কিন্তু আপনি ভাবছেন, যেটা আপনার ভেতরে বাস্তবিক ভাবে ঘটছে, আপনি উত্তেজিত হচ্ছেন। বিষয়টা কিন্তু আপনি ইচ্ছা করে করছেন না, আপনার ইচ্ছায় ঘটছে শুধু খারাপ ছবি দেখছেন বা বাংলা চটি গল্প পরছেন বা অশ্লীল কিছু নিয়ে ভাবছেন এটা, বাকিটা কিন্তু স্বয়ংক্রিয়। আপনি উত্তেজিত হচ্ছেন, আপনার ভেতরে কাম/লালসা নামক বিষয় গুলো চলে এসেছে, যেটা আপনি নিজেও তখন বুঝছেন না। খুব বেশি মাত্রায় উত্তেজনার এক পর্যায়ে আপনি স্বমৈথুন বা হস্তমৈথুন বা অন্য যেকোনো উপায়ের দিকে চলে গেলেন, এটা আপনি যাবেন না, আপনার উত্তেজনা আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে আপনার বীর্যপাত বা সাময়িক তৃপ্তির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি শেষ হচ্ছে। আপনি কি জানেন কি পরিমান ক্ষতি আপনার হলো একেবারেই অকারনে? যৌন সঙ্গমে, স্বমৈথুন, হস্তমৈথুনে প্রতিবার কত ক্যালরি খরচ হয় তার হিসেব কি করেছেন কখনো ? নাকি ভাবছেন এই হিসেবের দরকারই কী, তাইতো? এই হিসেবেরও দরকার রয়েছে। কারণ শরীর থেকে যত ক্যালরি খরচ করে দিচ্ছেন, সেটা আপনার জানা দরকার, না হলে বুঝবেন না কি হচ্ছে আপনার ভিতর।

কেন আপনি অশ্লীলতাকে নিজের ভিতর প্রশ্রয় দিচ্ছেন? কারনটা সাময়িক তৃপ্তি তাইতো? আপনি তো কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারী, কোনো ধর্মেই তো এসব করা জায়েজ নয়। আপনি বলতেই পারেন, এই যে বীর্য বের হচ্ছে, প্রতিদিনের খাওয়া দাওয়ায় তো তা পূরণ হচ্ছেই, সমস্যাটা কোথায় বের হলে? একবার পর্ণ ভিডিও দেখলে,খারাপ ছবি দেখলে করলে সেটা আপনাকে বীর্যপাত পর্যন্ত নিয়ে যাবেই আর এটা ঘটে ১০০% ক্ষেত্রে। এটা আপনার ইচ্ছা এবং অনিচ্ছা দুই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। হয় সেটা স্বপ্নদোষ এর মাধ্যমে, নচেৎ আপনি নিজেই করছেন। পর্ণ বা খারাপ ছবি দেখে একবার বীর্যপাত করলে ২,৫৯,২০০ সেকেন্ড সময় লাগে আপনার মস্তিস্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে। বুঝতে পারছেন কি পরিমান ক্ষতি এটা? এবার দেখে নিন আরো যেসব ক্ষতি হয়।

▪যৌনশক্তি নষ্ট হয় – পর্ণগ্রাফির প্রধান ক্ষতিকর দিক হলো এগুলো নিয়মিত দেখার ফলে যৌন শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া আরো যা হতে পারে

১। যৌন উত্তেজনা কমে যেতে পারে যা ইরেক্টাইল ডিসফাংশন নামে পরিচিত।
২। যৌন কাজে অর্গাজম লাভ না করা এবং যৌনাঙ্গে অনুভূতি/সেন্সিটিভিটি কমে যাওয়া।
৩। খুব বেশি মাস্টারবেশনের ফলে যৌনাঙ্গের নার্ভ এন্ডিংগুলো এবং ছোট বড় রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যে কারণে মূলত সেন্সিটিভিটি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪। খারাপ ছবি দেখে সুখ খুঁজে পেলেও বাস্তব জীবনে যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া।
৫। ফেটিজমে আক্রান্ত হয়ে পড়া।

▪ব্রেনের প্রখরতা কমে যায় – খারাপ ছবি দেখার আসক্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক সব সময় নারীর দেহ নিয়ে চিন্তা করে ফলে তার ব্রেনের স্বাভাবিক প্রখরতা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া মস্তিষ্কের গ্রে-ম্যাটেরিয়াল কমে যায়, যা স্মৃতিশক্তির সাথে সম্পর্কিত।

▪দায়িত্ববোধ নষ্ট হয়ে যায় – খারাপ ছবি দেখার আসক্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলে। মানুষকে ভালবাসা অনেক সহজ কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে ভালবাসাটা অনেক কঠিন। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তখন সে নানা অজুহাতে পাশ কাটিয়ে যায়। দুনিয়ার আর কোন চিন্তা তার মাথায় থাকে না পর্ণগ্রাফি ছাড়া।

▪সময় নষ্ট হয় – সময়ের অপর নাম জীবন। সেকেন্ড, মিনিট আর ঘন্টার যোগ ফলই হলো আমাদের জীবন। সেই সময়কে আমরা হেলায় ফেলায় নষ্ট করে ফেলি। খারাপ ছবি দেখার পর নিজের খায়েশ মিটে গেলে মনে হয় কেন আমি এই জিনিসটা দেখলাম আমার সময়টা নষ্ট হলো। কিন্তু তখন আর কিছুই করার থাকে না। সময় হলো এমন এক ধারালো তলোয়ার যদি আপনি তাকে সময় মতো কাটাতে না পারেন তবে সে নিশ্চিত আপনাকে কেটে ফেলবে।

▪স্বাভাবিকতা নষ্ট হয় – আপনার স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত হয়। অন্য দশটা মানুষের মত আপনি আর স্বাভাবিক থাকতে পারবেন না।

▪নারীদের চোখে ঘৃণার পাত্র হয় – সমাজের কোন ভদ্র নারীই পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত ব্যক্তিকে পছন্দ করে না। ফলে অনেকেই তার কাংখিত নারীকে বিয়ে করতে পারে না বা বিয়ের পর যদি বউ জানতে পারে আপনি পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত তবে  সংসারে শান্তি নষ্ট হবে।

▪রুচিবোধ নষ্ট হয়ে যায় – খারাপ ছবি দেখতে আসক্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক রুচিবোধ নষ্ট হয়ে যায়। সে যেমন কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য দেখেছে তেমনি দৃশ্য সে তার বউয়ের কাছ থেকে আশা করে যা কখনই কাংখিত নয়।

▪হতাশার সৃষ্টি হয় – কেউ প্রতিদিন একটি  নির্দিষ্ট খারাপ ছবি দেখেনা। প্রতিদিন নতুন নতুন নারীর দেহ দেখে থাকে ফলে তার কাছে তার বউটা প্রতিদিন ভাল লাগে না। আবার পর্ণ ছবিতে দীর্ঘ সময় ধরে জৈবিক চাহিদা পূরণ করে থাকে কিন্তু বাস্তবে অনেক ছেলেই তাদের এই শক্তি ধরে রাখতে পারে না বলে হতাশায় ভুগতে থাকে।

▪অর্থনৈতিক ক্ষতি – পর্ণগ্রাফি এমন নেশা যা না দেখলে ঘুম হবে না। প্রতিদিনই ইন্টারনেট ক্রয় করে তাকে এসব দেখতে হয়। তাই এটি অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতি করে।

▪পরকালের শাস্তি – হাদিসে এসেছে যে চোখ পরনারীর সৌন্দর্য্য দেখবে কেয়ামতের দিন তার  চোখে গলিত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে।

▪ইবাদতে মজা পাওয়া যায় না – যে চোখ দিয়ে আপনি নারীর দেহ দেখবেন সেই চোখ দিয়ে কখনো আল্লাহর ভয়ে পানি বের হবে না। কারণ আপনার অন্তর মরে যাবে। কোন ইবাদতেই আপনি মজা পাবেন না। যা ইবাদত করেন সেটা লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়।

খারাপ ছবি দেখার আসক্তি থেকে বাঁচার উপায়

▪শিশুদেরকে স্মার্ট ফোন না দেওয়া – অতিরিক্ত ভালবাসা অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদেরকে বিপদগামী করে ফেলে। একজন স্কুলগামী ছেলেকে স্মার্ট ফোন দেওয়ার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই।

▪এন্টি পর্ণ সফটওয়ার ইনস্টল দেওয়া – গুগলে সার্চ দিলে এন্টি পর্ণ সফটওয়্যার পাওয়া যায় তা আপনার ফোনে বা ল্যাপটপে দিতে পারেন এবং তার পাসওর্য়াড অবশ্যই অন্য কাউকে দিয়ে দিতে বলবেন তা না হলে আপনি নিজে রাতের বেলা পাসওর্য়াড দিয়ে খারাপ ছবি দেখা শুরু করবেন কারণ আপনি তাতে আসক্ত।

▪একা একা না থাকা – খারাপ ছবি দেখতে আসক্ত ব্যক্তির একা থাকা ঠিক না কারণ তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

▪খাবার রুমে ডেস্কটপ রাখা – ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ এমন স্থানে রাখা উচিত যেখানে পরিবারের সদস্যদের চলাচল আছে বা  ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ চালানোর সময় ঘরের দরজা খোলা রাখা। দরজা খোলা রাখলে অন্তত মানুষের ভয়ে বা লজ্জায় হলেও আপনি খারাপ ছবি দেখা থেকে রক্ষা পাবেন।

▪মৃত্যুর কথা মনে রাখা – সবর্দা মৃত্যুর  কথা মনে রাখলে  হয়তো আপনি তা হতে রক্ষা পেতে পারেন। আপনি প্রতিদিন রাতে আয়নার সামনে দাঁড়াবেন আর আর বলবেন আজ যদি আমার জীবনের শেষ রাত হয় তবে কি আমি খারাপ ছবি দেখব। আমার বিশ্বাস আপনার বিবেক যদি মরে না থাকে তবে বলবে না দেখা যাবে না।

▪বই পড়া – বই পড়ার নেশা আপনাকে এই নেশা থেকে দূরে রাখতে পারে। তাই হাতের কাছে বই রাখুন এবং সময় পেলেই বই পড়ুন।

খারাপ ছবি দেখার আসক্তি থেকে বের হয়ে আসলে আপনার ধ্বংস অনিবার্য। পরিবারের সকল সদস্যকেই এই যুদ্ধের সৈনিক হতে হবে না হলে ধ্বংস হবে আপনার ছেলে, মেয়ে, বোন, ভাই আর নষ্ট হবে পরিবারের সুখ।

738 total views, 3 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন