খাবার খাবেন সাবধানে এবং কিছু নিয়ম মেনে

খাবার খাবেন সাবধানে এবং কিছু নিয়ম মেনে
4.9 (97.14%) 7 votes

খাবার সাবধানে খাওয়া উচিত। ফার্স্ট ফুড বা বাইরের খাবার অনেকের জন্য স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করছে, যা এখন অনেকের উদ্বেগের বিষয়। একটা সময়ে পুষ্টির অভাব আমাদের জন্য একটি বড় সমস্যা ছিল। কিন্তু এখন অতিরিক্ত পুষ্টিও একটি সমস্যা হয়ে উঠছে। রোগব্যাধি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এখন অনেক নারী পুরুষ স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠছেন। এ কারণে তারা খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে চান। অনেকে এজন্য যেমন চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন, অনেক নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও করছেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

খাবার

হঠাৎ খাবার গলায় আটকে গেলে কি করবেন

গলার ভেতর শ্বাসনালি ও খাদ্যনালি পাশাপাশি থাকে বলে খাওয়ার সময় শ্বাসনালির ওপরের অংশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু বিস্কুট, মুড়ি, কেকজাতীয় শুকনো খাবার খেলে, তাড়াহুড়া করে খেলে, খাবার সময় কথাবার্তা বললে বা অন্য কোনো শারীরিক কাজ করলে সেই খাবার খাদ্যনালিতে না গিয়ে শ্বাসনালিতে ঢুকে শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ সময় বেসিক লাইফ সাপোর্ট জানা লোক ছাড়া অন্য কারোর মাধ্যমে গলায় আঙুল ঢুকিয়ে খাবারের টুকরাটা বের করে আনার চেষ্টা করা উচিত নয়। সময়টা এ ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া মানে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া।

হেইমলিচ ম্যানইউভার – শ্বাসনালিতে খাদ্য আটকে গিয়ে দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেতে বিখ্যাত আমেরিকান ইএনটি স্পেশালিস্ট হেনরি হেইমলিচ ১৯৭৪ সালে একটা পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যা বেশ কার্যকর। তাঁর নামানুসারে একে বলা হয় ‘হেইমলিচ ম্যানইউভার’। সতর্ক হয়ে এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

অন্য কেউ আক্রান্ত হলে – সবার আগে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে ভরসা দিতে হবে, যাতে সে বেশি ভয় না পেয়ে যায়। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তির পেছনে সোজাভাবে দাঁড়াতে হবে। পেছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বুক আর পেটের মধ্যখানে জোরে চেপে ধরে চাপটি ওপর দিকে সঞ্চালিত করতে হবে। যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির সৃষ্টি হয়। এতে গলায় আটকে থাকা খাদ্য বা বস্তু মুখ দিয়ে কাশির সঙ্গে বেরিয়ে আসে।

সদ্যোজাত শিশুর ক্ষেত্রে – সদ্যোজাত বা দুই-আড়াই বছর বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে-

প্রথমে শিশুটিকে বাঁ হাতে নিতে হবে, পিঠের দিকটা যাতে ওপরের দিকে আর মুখ মেঝের দিকে থাকে।
এবার ডান হাতের তালু দিয়ে পিঠের দিকে কাঁধের ওপর তিন-চারটি চাপড় মারতে হবে, যাতে মুখ দিয়ে আটকানো খাবার বা বস্তুটি বেরিয়ে আসে।

এতে কাজ না হলে শিশুটিকে চিত করে শোয়াতে হবে এবং দুই আঙুল দিয়ে অল্প চাপে বুকের মধ্যস্থলে মালিশের মতো মুখের দিকে চাপ সঞ্চালন করতে হবে। তারপর আবার আগের মতো বাঁ হাতে রেখে তিন-চারটি চাপড় মারতে হবে। এতে শিশুর মুখ দিয়ে খাবার বা বস্তুটি বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়।

নিজে আক্রান্ত হলে – এ ধরনের ঘটনায় নিজে আক্রান্ত হলে এবং আশপাশে কেউ না থাকলে সে ক্ষেত্রে একটি চেয়ার নিয়ে চেয়ারের যেদিকে হেলান দেওয়া হয় সেটি পেট আর বুকের মধ্যস্থলে রেখে যতটা সম্ভব চেপে রেখে ওপরের দিকে চাপটি সঞ্চালিত করতে হবে, যাতে কাশির সৃষ্টি হয়। এতে অনেক সময় খাবার বা বস্তু মুখ দিয়ে কাশির সঙ্গে বেরিয়ে আসে।

সতর্কতা ও পরামর্শ – খাওয়ার সময় খাবার খাওয়াটাই একমাত্র কাজ হওয়া উচিত, অযথা কথাবার্তা বা গল্পগুজব করা ঠিক নয়। খাবার ধীরে ধীরে, চিবিয়ে, ছোট টুকরা টুকরা করে খান। মাঝে মাঝে পানি পান করুন।

কারো শ্বাসকষ্টের সামান্য সমস্যা থাকলে মুড়ি, চিঁড়া ও বিস্কুটের মতো শুকনা খাবার এড়িয়ে চলুন।

শিশুদের গলায় কিছু আটকে গেলে মুখে আঙুল ঢুকিয়ে বের করার চেষ্টা না করে কিছুটা ঠাণ্ডা পানি খাইয়ে চেষ্টা করা উচিত। অধৈর্য হয়ে বা তাড়াহুড়া করে শিশুদের মুখে খাবার ঠেসে দেবেন না। এর পরিণতিও মারাত্মক হতে পারে।

ছোট ছোট বস্তু, যেমন বোতাম, মার্বেল বা ছোট বল, কলমের ঢাকনা—এসব জিনিস নাগালের বাইরে রাখুন।

যাদের গলায় ফ্যাট জমে আছে বা যারা অতিরিক্ত মোটা লোক, তাদের এ সমস্যা বেশি ঘটে বলে ওজন কমানো বা গলার চর্বি কমানোর চেষ্টা করা ভালো।

খালি পেটে খাবেন না যেসব খাবার

ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি পান করা কিংবা চা খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। তবে এমন কিছু খাদ্য আছে যেগুলো খালি পেটে খাওয়া একদমই উচিত নয়। জেনে নিন কোন খাদ্য গুলো খালি পেটে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন।

সোডা জাতীয় পানি পান: খালি পেটে সোডা জাতীয় পানিপান করলে অ্যাসিড লেভেল বৃদ্ধি করে দেয়, যার কারণে অ্যাসিডিটি সমস্যা, বমি বমি ভাব এমনকি জ্বালাপোড়ার সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

কলা: কলা ম্যাগনেসিয়ামের একটি বড় উৎস। কিন্তু খালি পেটে কলা খেলে শরীরের ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেয়। যার কারণে শরীরে ম্যাগনেশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। যা হার্ট ও রক্ত ধমনী জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে।

টমেটো: টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে পেকটিন এবং ট্যানিক অ্যাসিড রয়েছে। টমেটো খালি পেটে খেলে, ট্যানিক এবং পেকটিন অ্যাসিডের সাথে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের বিক্রিয়া ঘটিয়ে থাকে। যা পাকস্থলীতে পাথর সৃষ্টি করে।

টক দই: খালি পেটে টকদই খেলে হজম শক্তি নষ্ট করে দেয়। এমনকি খালি পেটে টক খেলে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়।

মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলুতেও রয়েছে পেকটিন এবং ট্যানিক অ্যাসিড। যার কারণে খালি পেটে খেলে পাকস্থলীতে পাথর হতে পারে।

মশলা জাতীয় খাবার: অতিরিক্ত ঝাল মশলা জাতীয় খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। খালি পেটে ঝাল মশলা জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে গ্যাস সৃষ্টি হয়ে থাকে। ফলে অ্যাসিডিটিসহ পেটে ব্যথা হতে পারে।

গরমে খাবেন না যেসব খাবার

ঘরে বাইরে এখন প্রচণ্ড গরম। গরমের সময়ে বিভিন্ন কারণে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন আপনি। জানেন কি কিছু খাবার রয়েছে যা গরমে খেলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন আপনি। তাই গরমে সময়ে সুস্থ থাকলে হলে এড়িয়ে চলুন বেশ কিছু খাবার।

পছন্দের খাওয়ার সময় হয়তো ভাবি না এগুলো শরীরের কতটা ক্ষতি করছে। খাবারগুলো স্বাস্থ্যকর হলেও গরমে এসব খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। আসুন দেখে নেই গরমে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন।

অতিরিক্ত গরুর গোশত
অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার
অতিরিক্ত চা ও কফি
দুধের তৈরি খাবার
অতিরিক্ত তেল গ্রহণ
ডুবো তেলে ভাজা খাবার
পোলাও, বিরিয়ানি
অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার

যে খাবার না খেলে কমবে হৃদরোগের ঝুঁকি

উচ্চ রক্তচাপ হলে কিছু খাবার এড়িয়ে যাওয়া ভালো। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও হৃদপিণ্ডকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো রক্ত সঞ্চালনকে ব্যাহত করে এবং জটিল শারীরিক সমস্যা তৈরি করে। উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে এড়িয়ে যাওয়া ভালো এমন কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলদি ফুড টিম।

লবণ – বেশি মাত্রায় লবণ খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এটি রক্তের সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটায় । পাশাপাশি মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ফ্র্যাঞ্চ ফ্রাই – আপনি কি জানেন ফ্র্যাঞ্চ ফ্রাইয়ে সাধারণত ২৭০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম  ও ১৯ গ্রাম চর্বি থাকে? বেশি সোডিয়াম খাওয়া ওজন বাড়ায়, হৃদপিণ্ডের ক্ষতি করে।

পিৎজা – গ্রোসারি ম্যানুফ্যাকচার অ্যাসোসিয়েশনের মতে, পিৎজা সোডিয়ামে ভরপুর। এটি শরীরের ক্ষতি করে। বিশেষ করে গরুর মাংসের পিৎজা।

প্রক্রিয়াজাত মাংস – প্রক্রিয়াজাত যেকোনো মাংস হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে এই খাবার এড়িয়ে চলুন।

লাল মাংস – জাংক ফুড ও ট্রান্স-ফ্যাট জাতীয় খাবারের মতোই লাল মাংস শিরাকে বিকল করে এবং হৃদরোগ তৈরি করে।

চিনি – চিনি, বিশেষ করে কৃত্রিম চিনি উচ্চ রক্তচাপ ও বিভিন্ন হৃদপিণ্ডজনিত সমস্যা তৈরি করে।

257 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন