এন্ড্রয়েড ফোনের প্রয়জনীয় কিছু টিপস

এন্ড্রয়েড ফোনের প্রয়জনীয় কিছু টিপস
পোস্টে রেটিং দিন

এন্ড্রয়েড ফোন এখন আমাদের হাতে হাতে। এন্ড্রয়েড বিষয়ে কিছু জানা থাকলে ফোন কিনতে এবং ব্যবহার করতে অনেক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। বর্তমানে আমাদের নিত্যদিনের সিংহভাগ সময় দখল করে রয়েছে এই এন্ড্রয়েড ফোন। আমাদের দেশে অনলাইন মার্কেট এখনো এতোটা জনপ্রিয়তা পায়নি, বেশিরভাগ এন্ড্রয়েড ফোন অফলাইন মার্কেট (বাজার) থেকেই কেনাবেচা হয়ে থাকে। এই অবস্থায় আপনি যদি একজন সাধারন ইউজার হোন এবং কোন দোকানে গিয়ে ফোন দেখাতে বলেন, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দোকানী আপনাকে যেকোনো ফোন ভূলিয়ে ভালিয়ে দিতে পারে। দোকানী মোটে ভেবে দেখবে না, আপনার জন্য ফোনটি উপযুক্ত হলো কিনা, সে সর্বদা প্রফিটের কথায় চিন্তা করবে। আজ আমি এন্ড্রয়েড ফোন বিষয়ে কিছু গাইড লাইন দেব।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

এন্ড্রয়েড

এন্ড্রয়েড ফোন কেনার সময় যা খেয়াল রাখবেন

অপারেটিং সিস্টেম – বর্তমান এন্ড্রয়েড ফোন বাজারে মূলত তিন ধরনের প্রধান অপারেটিং সিস্টেম দেখতে পাওয়া যায়; এন্ড্রয়েড ফোন, উইন্ডোজ ফোন, এবং আইওএস। সাধারনত নোকিয়া এবং মাইক্রোসফটের ফোন গুলো উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেমে চলে তবে আজকাল অনেক চাইনিজ ফোন ব্র্যান্ডেও উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে দেখতে পাওয়া যায়। আইওএস শুধু মাত্র অ্যাপেল আইফোনের ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন কারণ এটি অ্যাপেলের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম এবং সম্ভবত অ্যাপেল কোম্পানি চান না যে, তার অপারেটিং সিস্টেম অন্য কোন কোম্পানি ব্যবহার করুক। আর এন্ড্রয়েড সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই, নামীদামী কোম্পানি গুলো থেকে শুরু করে নামবিহীন ফোন গুলোতেও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম দেখতে পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আপনার ফোনের জন্য কোন অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহার করবেন? এই সিদ্ধান্তটি নির্ভর করে আপনার বাজেট, আপনার পছন্দ এবং আপনার ব্যাবহারের উপর। এক কথায় যদি এর উত্তর শুনতে চান তবে আমি বলবো যেকোনো ফোনের জন্য এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম বেস্ট হবে। তবে আপনি যদি এন্ড্রয়েড ফোন চালাতে চালাতে বিরক্ত হয়ে থাকেন বা এন্ড্রয়েড ফোনের উপর ঘৃণা করেন, তবে উইন্ডোজ ফোন ইউজ করে দেখতে পারেন।

ভার্সন – অ্যান্ড্রয়েডের ও রয়েছে নানান ভার্সন। আমি বলবো; ফোন কেনার সময় সবচাইতে লেটেস্ট এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম পছন্দ করাই উত্তম। যদি লেটেস্ট সম্ভব না হয় তবে এক ধাপ পুরাতন অপারেটিং সিস্টেম পছন্দ করতে পারেন। যেমন বর্তমানের সবচাইতে লেটেস্ট হলো এন্ড্রয়েড ৮। ললিপপ বা কিটক্যাট এখনকার দিনে একেবারে ব্যাকডেট। দেখুন লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম থাকার অনেক ফায়দা রয়েছে। একে তো বর্তমানে প্রায় সকল অ্যাপস ডেভেলপাররা শুধু লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেমকে টার্গেট করেই তাদের অ্যাপস গুলো আপডেট করছে বা নতুন অ্যাপস তৈরি করছে আর দ্বিতীয়ত নতুন অপারেটিং সিস্টেম একটু বেশি নিরাপদ হয়ে থাকে।

প্রসেসর – প্রসেসরের উপর আপনার ফোনটি কতটা ভালো বা মন্দ হবে তার অধিকাংশ ব্যাপার গুলোই নির্ভর করে। আপনি যদি হাই বাজেটের এন্ড্রয়েড ফোন কেনার চিন্তা করেন তবে বাজারে সবচাইতে লেটেস্ট প্রসেসরের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিৎ। মনে রাখবেন যতো লেটেস্ট প্রসেসর ততো ভালো পারফর্মেন্স দেবে এবং কম পাওয়ার ক্ষয় করবে।  বর্তমানে  কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫, ৮২১, ৮২০, ৮১০, ৬৫২, ৬৫০; স্যামসাং এর এক্সিনস ৮৮৯০, মিডিয়াটেক হেইলো এক্স২০, এক্স২৫ ইত্যাদি খুব ভালো মানের প্রসেসর। ভালো মানের ফোন কেনার সময় অবশ্যই এই লিস্টের কোন একটি প্রসেসর অবশ্যই আপনার ফোনে থাকাটা প্রয়োজনীয়।

র‍্যাম – আজকের দিনে যেকোনো ফোনে ২ জিবি র‍্যাম থাকাটা আবশ্যক। কেনোনা নতুন অপারেটিং সিস্টেম এবং নতুন অ্যাপস গুলোকে রান করাতে একটু বেশি র‍্যাম প্রয়োজনীয়। আবার ফোনে ২ জিবি র‍্যাম থাকলেই যে আপনি ২ জিবিই ব্যবহার করতে পারবেন তেমনটা কিন্তু নয়। অপারেটিং সিস্টেম এবং ফোনের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ প্রসেস সবসময়ই অর্ধেক বা তার বেশি র‍্যাম দখল করে রাখে। হতে পারে ২ জিবি র‍্যামের ফোনে ৮০০ এম্বি-১জিবি অপারেটিং সিস্টেম নিজেই রিজার্ভ করে রেখেছে। আজকের দিনে ১৫-২০ হাজার টাকার বাজেট ফোনেই ৩-৪ জিবি র‍্যাম দেখতে পাওয়া যায় এবং বাজারে ৬-৮ জিবি র‍্যামের পর্যন্ত এন্ড্রয়েড ফোন রয়েছে। আপাতত আপনার ফোনে ২ জিবি র‍্যাম হলেই কাজ চলে যাবে তবে ৩-৪ জিবি র‍্যাম থাকলে ফোনটিকে আরো ১-২ বছর বেশি ইউজ করতে পারবেন। ৬-৮ জিবি র‍্যামের প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে নেই। আপনার ফোন একদম লো বাজেটের হলেও সেখানে অন্তত ১ জিবি র‍্যাম থাকা আবশ্যক। তবে ৫১২ এম্বি র‍্যামের ফোন কেনা একেবারেই বোকামি।

ডিসপ্লে – আপনি যদি ভালো বাজেটের এন্ড্রয়েড ফোন কেনার চিন্তা করেন তবে অবশ্যই সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে রয়েছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লের পরে আরে অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং এলইডি ডিসপ্লে। মিড বাজেটের এন্ড্রয়েড ফোন গুলোতেও সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে পেয়ে যাবেন সাথে শুধু অ্যামোলেড ডিসপ্লে হলেও সমস্যা নেই। লো বাজেটে এলইডি ডিসপ্লে থাকতেই হবে। এখনো অনেক ফোনে এলসিডি প্যানেলের ডিসপ্লে দেখতে পাওয়া যায়; সেগুলোকে না কেনাই ভালো। ডিসপ্লের সাথে আরো দুইটি টার্ম হয়েছে, তা হলো ডিসপ্লে রেজুলেসন এবং পিক্সেল প্রতি ইঞ্চি বা পিপিআই। বর্তমান চাহিদা অনুসারে প্রথমত অবশ্যই ফোনের ডিসপ্লেটির রেজুলেসন এইচডি (৭২০পি বা ১২৮০x৭২০) হতে হবে তবে ফুল এইচডি (১০৮০পি বা ১৯২০x১০৮০) হলে বেশি ভালো হয়। তাছাড়া বর্তমান মার্কেটে ৪কে রেজুলেসনের ডিসপ্লেও ফোনে ব্যবহার হতে দেখতে পাওয়া যায়। সাধারন ব্যবহারের জন্য ফুল এইচডি ডিসপ্লেই যথেষ্ট।

এন্ড্রয়েড ফোনের টিপস

এন্ড্রয়েড ফোনের ব্যবহার প্রতিদিন ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।  স্মার্ট ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ থেকে আরও সহজতর করেই চলেছে। স্মার্ট ফোনের কিছু প্রয়োজনীয় টিপস জানা থাকলে সেই গুলো স্মার্ট ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা কে আরও সহজ করে দেয়। তাহলে চলুন জেনে নেয়া নেই স্মার্ট ফোনের জন্য কয়েকটি টিপস

দ্রুত চার্জ করা – ধরুন আপনার এন্ড্রয়েড  ফোনের ব্যাটারি প্রায় শেষ, কিন্তু অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে আপনাকে জরুরী কাজে বাহিরে যেতে হবে। কি করবেন তখন? সহজ উপায় হল আপনার মোবাইলের Airplane Mode অন করে চার্জে দিন। দেখবেন কম সময়ে পূর্বের চাইতে অনেক দ্রুত আপনার মোবাইলে চার্জ হচ্ছে। তাছাড়া আপনি মোবাইলে ডার্ক ব্যাকগ্রাউন্ড ওয়ালপেপার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ব্যাটারির চার্জ বেশিক্ষন পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে।

Ad থেকে মুক্তি – ধরুন আপনি একটি মুভি দেখছেন অথবা মজাদার কোন অফলাইন গেম খেলছেন। কিন্তু বারবার Ad আসার কারনে বিরক্তবোধ করছেন? তাহলে আপনি আপনার ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করে দিন অথবা আবারও Airplane Mode চালু করে দিন। আর রক্ষা পান Ad এর যন্ত্রনা থেকে। এবার শান্তি মত উপভোগ করুন আপনার প্রিয় মুভি বা গেম।

Webpage সেভ করে রাখুন – আমরা প্রায়ই অনলাইনে বিভিন্ন খবরা-খবর, বই, আর্টিকেল বা আন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করার জন্য গিয়ে থাকি। কিন্তু ইন্টারনেট কানেকশন দুর্বল হওয়ার কারনে অনেক সময় Webpage ওপেন হতে অনেক সময় লাগে বা ওপেনই হয় না। অথবা পরবর্তীতে সেগুলো পড়ার জন্য সংরক্ষন করতে চান, তাহলে Google Chrome আপনাকে এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারে। আপনি যে Webpage টি সংরক্ষন করতে চান প্রথমে সেই Webpage টি ওপেন করুন। তারপর উপরে ডানপাশে তিনটি ডট চিহ্নিত মেনু বার টি ওপেন করুন। এবার Download আইকনে ক্লিক করুন। কাজ শেষ, ডাউনলোড হতে কিছুটা সময় নিতে পারে। এখন আপনি যখন তখন ইন্টারনেট ছাড়া Webpage টি ওপেন করতে পারবেন।

ফোন মেমোরি বৃদ্ধি – আমরা প্রায়ই নতুন কোন গেম বা এপ্লিকেশন ইনস্টল করার সময় “পর্যাপ্ত মেমোরি নেই” এই ধরনের একটি ওয়ার্নিং দেখতে পাই। তখন আমরা অন্য এপ্লিকেশন, পিকচার বা ভিডিও ডিলিট করে তা ইনস্টল করি। যা আমাদের কাছে খুবই বিরক্তিকর একটি জিনিস। কোন ফাইল ডিলিট না করে তখন দ্রুত ফোন মেমোরি ফাকা করতে ক্লিয়ার করুন আপনার মোবাইলের কেশ মেমোরি। কেশ মেমোরি ক্লিয়ার করার প্রক্রিয়া টি হলঃ Settings –> Storage -> Cached Data -> Delete/Clear

ইন্টারনেট শেয়ারিং – আপনার এন্ড্রয়েড ফোনে থাকা মোবাইল ডেটা আপনি খুব সহজেই অন্য কারো সাথে শেয়ার করতে পারবেন আপনার স্মার্ট ফোনের সাহায্যে। এর জন্য আলাদা কোন ডিভাইসের প্রয়োজন পরে না। শুধু মাত্র আপনার এন্ড্রয়েড ফোন কে কাজে লাগিয়ে এটি করা সম্ভব। কিভাবে করবেন সেটি নিচে দেওয়া হলঃ

WiFi Hotspot এর জন্যঃ Settings -> More -> Tethering and portable Hotspot -> WLAN Hotspot -> Turn On

আপনারা ডেটা কেবল দিয়ে ডেক্সটপ কম্পিউটারেও মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা সম্ভব। যেভাবে করবেনঃ
Settings -> More -> Tethering and portable Hotspot -> USB Tethering

হেড ফোন ব্যবহার – আমরা অনেকেই জানি না যে ছবিও তোলার জন্য শাটার বাটন হিসেবে হেড ফোন ব্যবহার করা যায়। এজন্য আপনার মোবাইলের ক্যামেরা চালু করুন, তারপর হেড ফোনটি লাগান। এখন ছবি ক্যাপচার জন্য হেড ফোনের বাটন টি চাপুন। দেখবেন ছবি ক্যাপচার হয়ে গেছে।

ড্রোনের মত ছবি তুলুন – আমাদের অনেকেরই ফটোগ্রাফির নেশা রয়েছে। কিন্তু এক্সেসিরিজের অভাবে নিজের মন মত ছবি তুলতে পারি না। তবে অতি সাধারণ কিছু ট্রিক্স ব্যবহার করে আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের সাহায্যেই দারুণ দারুণ ছবি তুলতে পাড়েন। অনেকেই উপর থেকে ছবি ক্যাপচার করার জন্য দামি দামি ড্রোন ব্যবহার করে। আমরা ড্রোনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করব গ্যাস বেলুন। বেলুনে হিমিয়াম ভরে তার সাথে আপনার স্মার্ট ফোনটি ভাল করে আটকিয়ে দিন। তারপর বেলুনে সুতা বেঁধে উপরে উঠিয়ে দিন। ছবি ক্যাপচার করার জন্য ক্যমেরায় টাইমার ব্যবহার করুন। অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। মোবাইল ফোনে অবশ্যই সেফটি কেস ব্যবহার করবেন যে কোন ধরনের দুর্ঘটনার এড়িয়ে চলার জন্য।

ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি – আপনার যদি ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি করতে চান তাহলে, মোবাইল ক্যামেরায় প্রোটেবল ম্যাক্রো লেন্স ব্যবহার করতে পাড়েন। এর সাহায্যে আপনার অনেক ছোট ছোট জিনিসেরও ছবি উঠাতে পারবেন। তবে ম্যাক্রো লেন্সের পরিবর্তে আপনার নষ্ট লেজার লাইটের সাথে থাকা লেন্সটি ব্যবহার করতে পারেন ম্যাক্রো লেন্স হিসেবে। ছবির কোয়ালিটি মোটামুটি কাছাকাছি আসবে।

53 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন