একা থাকা জরুরি যে কারণে

একা থাকা জরুরি যে কারণে
5 (100%) 2 votes

একা থাকা উপকারী কিছু কিছু সময়। যদিও মানুষ একা থাকতে চায় না। মানুষ সামজিক জীব। সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার ইচ্ছা থাকায় স্বাভাবিক। একা নিঃসঙ্গ জীবন কাটানো মানুষের পক্ষে অনেক কষ্টকর। তারপরও নানা প্রয়োজনে আমাদের একা থাকতে হয়। এই একাকিত্ব মাঝে মাঝে আমাদের শারীরিক মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে মানুষের জীবনে কখনো না কখনো একা থাকাটা খুবই জরুরি। এতে মানুষের বাস্তবিক জ্ঞান বাড়ে। আত্ম-বিশ্লেষণের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায়। তাছাড়া কিছু বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে একজন মানুষের কিছুদিন সম্পূর্ণ একা থাকা দরকার। এবার জেনে নিন এই সম্পর্কে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

একা

সম্পর্কের মূল্যায়ণ – মনের মানুষ কাছে থাকলে তার মূল্য বোঝাটা কষ্টকর। তার মূল্য আপনার কাছে আর দশটা সাধারণ মানুষের মতোই। তার আপনার প্রতি যত্নশীল হওয়া, মায়া মমতা কোনো কিছুতেই তেমন গা লাগে না। কিন্তু যখন একা থাকবেন, তখন তার অভাব বুঝতে পারবেন। প্রতিটি মুহূর্তে আপনাকে তার আদর-ভালোবাসার অভাব কাতর করে রাখবে। আর তখন সম্পর্কের মূল্যায়ণ করতে শিখবেন সহজেই। তাই সম্পর্কের মূল্যায়ণে কিছুদিন হলেও একাকীত্ব জরুরি।

দায়িত্বের জাগরণ – সঙ্গীর ওপর নির্ভরশীলতা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। বুঝতেই পারেননি কখন এই অভ্যাসটা আপনার মধ্যে দানা বেধেছে। আপনার সঙ্গে থাকা নির্ভরশীল মানুষটার সাহায্য পেয়েই এই অবস্থা। অনেকটা ইচ্ছা করেই নিজের অনেক দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন আপনি। যখন একা থাকা শুরু করবেন তখন এই দায়িত্বগুলো নিজেই করা শুরু করবেন। একাকীত্ব আপনার ঘুমিয়ে থাকা দায়িত্ববোধকে জাগ্রত করতে সাহায্য করবে।

সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বাড়ে – আমরা আমাদের জীবনের সিদ্ধান্তগুলোর জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করি। প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে অন্যের মতামত, বুদ্ধি ইত্যাদি নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে থাকি। কিন্তু এতে করে আমরা পুরোপুরি নির্ভরশীল মানুষে রুপান্তরিত হই। তাই কিছুদিন একা থাকা উচিৎ সবার। এতে করে নিজের জীবনের একান্ত সিদ্ধান্তগুলোর জন্য নির্ভরশীল হতে হয় না।

মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বাড়াতে – আপনি যখন আপনার পরিবারের ছত্রছায়ায় সব কাজ করছেন, তখন খুব বেশি চিন্তা করার প্রয়োজন পড়ছে না। আজকে কি খাবেন, আপনার পোশাক কে ধুয়ে দেবে, আপনি কতো টাকা বেহিসেবে ব্যয় করছেন, কিংবা আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে কতোটুকু চিন্তা করা উচিৎ ইত্যাদি। কিন্তু যখন আপনি নিজে সবকিছু পরিচালনা করবেন। এসব বিষয়ে আপানার মাথায় এমনিতেই চিন্তা চলে আসবে। আপনি নিজেই সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও উন্নত হয়ে যাবে।

সামলে নেয়া – আপনি যখন কোনো কারণে আপনার পরিবার থেকে দূরে থাকবেন কিংবা পরিবারের সাথে কোনো কারণে যোগাযোগ রাখতে পারবেন না তখন আপনার মাঝে চরম আকারের একাকিত্ববোধ কাজ করবে। আর এই একাকিত্ববোধ আপনাকে শুধু নিঃস্ব করবে না, আপনাকে কিছু জিনিস শিখিয়ে যাবে। আপনি জীবন কিভাবে একা একা কাটাবেন, কেউ যখন আপনার পাশে না থাকবে তখন নিজেকে কিভাবে সামলে নেবেন একাকীত্ব আপনাকে তাই শেখাবে।

যোগ্যতা – আপনি যখন একা থাকবেন, হাজারো মানুষের ভিড়ে আপনি যখন একা থাকবেন তখন আপনি নিজের যোগ্যতা অনুভব করতে পারবেন। আপনি নিজেকে কতটা সময়ের সঙ্গে উপযুক্ত করে তুলতে পেরেছেন তা অনেকাংশে নির্ভর করে আপনার এই যোগ্যতার ওপর। অনেকে অনেক কথাই বলবে। সবার কথার আড়ালে আপনি নিজেকে খুঁজে পাবেন কেবল এই একাকীত্ব থাকার সময়টুকুতেই।

বন্ধু – আপনার জীবনে আসল বন্ধু কে তা এই একা থাকার সময়টুকুতে বুঝতে পারবেন। আপনার বন্ধুদের আপনার জীবনে কতটুকু দরকার আর কে কে আপনাকে সত্যিকার অর্থে আপন ভাবে তা কেবল বোঝা যায় এই একাকীত্ব থাকার সময়টাতেই।

নিজেকে বুঝতে – আপনি যখন পুরোপুরি একা থাকবেন, নিজের কাজগুলো নিজেই করবেন। আপনি নিজেকে নতুন করে বুঝতে শিখবেন। তখন নিজের সিদ্ধান্তগুলো নিজে নেয়ার ক্ষমতাও অর্জন হবে। আপনার অজান্তেই অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব হবে। কারণ অন্যের প্রতি দায়িত্ব চাপিয়ে আমরা নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। বুঝতেই পারি না কোন কাজটি আমাদের দিয়ে করা সম্ভব।

পরিশেষে – কখনো কখনো এমন সময় আসে যখন মানুষ একাকিত্ব চায় । আর এই একাকীত্ব মানুষকে একদিকে যেমন দুর্বল করে দেয় আবার অন্যদিকে করে তোলে শক্তিশালী।

103 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে
  • 20
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন