আম ও আমের পাতা খাওয়ার উপকারিতা

আম ও আমের পাতা খাওয়ার উপকারিতা
5 (100%) 2 votes

আম খেতে সবাই পছন্দ করে। আমের স্বাস্থ্য উপকারিতার বিষয়েও কারো সন্দেহ নেই। শুধু আম নয় আমের পাতাও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি যা অনেকেই জানেন না। আমে খনিজ উপাদান আছে। যার লেপটিপ আমাদের শরীরের ভালো কাজ করে। লেপটিন একটি হরমোন যা আমাদের শরীরের খাদ্য প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। যদি আমরা আম খাই আমাদের মস্তিষ্ক খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শুরু করার একটি সংকেত পায়। পুষ্টিবিদরা বলেন গ্রীষ্মকালে আম খাওয়া হলে আমাদের বছরের বাকি সময় খাবার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে আম।

আম

আম খাওয়ার উপকারিতা

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আম কাঁচা অথবা পাকা যে ভাবেই খাওয়া হোক তা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। অনেক ক্ষেত্রে পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমের গুণ আরও বেশি। আম আমাদের শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। জেনে নিন আমের কিছু উপকারিতা-

১. কাঁচা আম ক্যারোটিন ও ভিটামিনএ সমৃদ্ধ,  যা চোখের দৃষ্টি বাড়াতে সাহায্য করে,  রাত কানা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে এবং চোখ ভালো রাখে ।

২. আমে রয়েছে ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন শরীরের স্নায়ুগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। শরীরকে রাখে সতেজ। ঘুম আসতে সাহায্য করে।

৩. আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমে ভিটামিনসি এর পরিমাণ বেশি।

৪. আমে বেটাক্যারোটিন,  ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম থাকায় হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৫. আমের মধ্যে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বিভিন্ন রকম ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে,  যেমন, স্তন ক্যান্সার,  লিউকেমিয়া, কোলন ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার ইত্যাদি।

৬. আমে খনিজ লবণের উপস্থিতিও রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। দাঁত, নখ, চুল, মজবুত করার জন্য আমের খনিজ লবণ উপকারী ভূমিকা পালন করে।

৭. আমে রয়েছে প্রচুর এনজাইম যা শরীরের প্রোটিনের অণু গুলো ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে, যার ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

৮. প্রতিদিন আম খেলে দেহেরক্ষয় রোধ হয় ও স্থূলতা কমিয়ে শারীরিক গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

৯.আমে রয়েছে ম্যালিক অ্যাসিড, সাইট্রিক অ্যাসিড ও টারটারিক অ্যাসিড যা শরীরে ক্ষার ধরে রাখে।

১০. কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় রক্তস্বল্পতা সমস্যা দূর হয়, আবার শরীরের রক্ত পরিষ্কার থাকে।

আম পাতা খাওয়ার উপকারিতা

বিভিন্ন গবেষণায় আম পাতার ঔষধি গুণের কথা প্রমাণিত হয়েছে। উজ্জ্বল, মাংসল এবং সূক্ষ্ম প্রান্তের আম পাতা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। আম পাতায় প্রচুর ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকে। আম পাতার ঔষধি গুনাগুণ পাওয়ার জন্য ফুটিয়ে বা গুঁড়ো করে খাওয়া যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কচি আম পাতা রান্না করে খাওয়া হয়।  আম পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।

রক্তচাপ কমায় – আম পাতায় রক্তচাপ কমানোর উপাদান আছে। হাইপারটেনশনের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ রক্তনালীকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে আম পাতা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ১ কাপ আম পাতার চা পান করলে হাইপারটেনশন কমে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে – আম পাতায় ট্যানিন এবং অ্যান্থোসায়ানিন থাকে যা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে। আম পাতার চা ডায়াবেটিস এড়িয়ে চলতে এবং সংবহন সম্পর্কিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা নিরাময় করে – আম পাতার চা পান করলে সকল ধরনের শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা সারতে এবং কমতে সাহায্য করে। যারা ঠান্ডা, ব্রংকাইটিস বা অ্যাজমায় ভুগছেন তারা এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারেন আম পাতা ফুটানো পানি পান করে।

কান ব্যথা কমায় – আপনি যদি কান ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে আম পাতার রস ব্যবহার করা হতে পারে সবচেয়ে কার্যকরী প্রতিকার। আম পাতায় হালকা তাপ দিয়ে কানের ছিদ্রের উপর লাগান। এটি চমৎকার ভাবে কাজ করবে।

পোড়া সারাতে – আম পাতার সাহায্যে পোড়া নিরাময় হতে পারে খুব দ্রুত। আম পাতার ছাই ত্বকের পোড়া অংশকে নিরাময় হতে সাহায্য করে। কিছু আম পাতা পুড়িয়ে ছাই করে নিন এবং এই ছাই আলতো করে পোড়া স্থানে ঘষুন।

ইউরিক এসিডের সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে – গেঁটে বাত নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী আম পাতা। কিছু কচি আম পাতা পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিন পাতার বর্ণ হলুদ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। উপকারিতা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়।

স্ট্রেস কমায় – যারা অস্থির ও উদ্বিগ্ন অনুভব করেন তারা এর থেকে মুক্তি পেতে পান করতে পারেন আম পাতার চা। ২/৩ কাপ আম পাতার চা পান করে দেখুন পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এটি আপনার স্নায়ু তন্ত্রকে শিথিল হতে সাহায্য করবে এবং আপনি সতেজ অনুভব করবেন।

কিডনির পাথর দূর করে – আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন এবং পানির সাথে মিশিয়ে সকালে পান করুন। এর ফলে কিডনি পাথর খুব সহজেই শরীর থেকে বের হয়ে যাবে।

গলা ব্যথা দূর করে – গলার ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে আম পাতা। কিছু আম পাতা পুড়তে দিন এবং এর থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া শ্বাসের সাথে গ্রহণ করুন। এতে আপনার গলা ব্যথার সমস্যা কমবে।

মৌখিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা – আম পাতার সাহায্যে আপনার মুখের দুর্গন্ধ দূর করা যায় এবং অস্বাস্থ্যকর দাঁত ও মাড়ির সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে।

আম পাতা বিভিন্ন ভাবে স্বাস্থ্যের উপকার করে থাকে। তবে আম পাতার চায়ে আপনার অ্যালার্জির সমস্যা হয় কিনা তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আম পাতায় আম গাছের আঠা বা কষ আছে কিনা দেখে নিতে হবে, তা না হলে এই কষ শরীরে  প্রবেশ করলে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাছাড়া এই কষ ত্বকে লাগলে ত্বক পুড়ে যেতে পারে।

128 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন