আমাশয় রোগের চিকিৎসা করুন ঘরোয়া পদ্ধতিতে

আমাশয় রোগের চিকিৎসা করুন ঘরোয়া পদ্ধতিতে
4.6 (91.43%) 7 votes

আমাশয় রোগের চিকিৎসা না করালে পরবর্তীতে বড় ধরনের সমস্যায় পরবেন। এলোপ্যাথিক এবং হারবাল যেকোন একটা মাধ্যমে করতে পারেন আমাশয় রোগের চিকিৎসা । আমাশয় হচ্ছে একটি ইন্টেসটেনাইল প্রদাহ যা আমাদের কোলনে হয়ে থাকে। উদরাময় ও তার সঙ্গে পেটের ব্যথা সহ অল্প অল্প মল, রক্ত, আম বা আম রক্ত ও পুঁজ বার বার বের হতে থাকলেই তাকে আমাশয় বলা হয়। পেট খারাপ থাকার সময় কালের উপর ভিত্তি করে আমাশয়কে দুভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

১. স্বল্পমেয়াদী
২. দীর্ঘমেয়াদী

স্বল্পমেয়াদী আমাশয় বলতে বুঝায়, এক সপ্তাহের কম সময় ধরে আমাশয় থাকা। স্বল্পমেয়াদী আমাশয়ের কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান দুটি হলো –

১.ব্যাকটেরিয়া জনিত আমাশয়
২.অ্যামিবা জনিত আমাশয়

এছাড়াও কিছু কিছু দীর্ঘমেয়াদী আমাশয়ের কারণ আছে যেগুলো মাঝে মাঝে স্বল্পমেয়াদী সমস্যা নিয়ে উপস্থিত হয়। দীর্ঘমেয়াদী আমাশয় হল- যে আমাশয় চার সপ্তাহের বেশী সময় ধরে হচ্ছে। এ ধরনের আমাশয়ের অন্যতম প্রধান কারণ গুলো হলো –

১.ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আই বি এস)
২.ইনফ্লেমেটরী বাওয়েল ডিজিজ (আই বি ডি)

আইবিডি-র মধ্যে আবার আছে ক্রনস ডিজিজ এবং আলসারেটিভ কোলাইটিস। স্বল্পমেয়াদী আমাশয় অল্প সময়ের চিকিৎসা নিয়ে পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদী আমাশয় হলে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয় এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। ব্যাকটেরিয়া জনিত আমাশয় সাধারণত যে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আমাশয় বেশী হয় তার নাম (সিগেলা)।গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে আমাশয় বেশী হয়। এটি আধোয়া হাত দিয়ে সবচেয়ে বেশী ছড়ায়, তবে দূষিত মাছি ও খাবারের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির পেট খারাপ হওয়ার পাশাপাশি পেটে ব্যথা হয়, পায়খানার রাস্তায় ব্যথা হতে পারে। এছাড়াও রোগীর জ্বর হয়, পানিশূন্যতা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। প্রথমে পায়খানার সাথে রক্ত ও আম যায়, পরে শুধু রক্ত ও আম যেতে থাকে। যে কোন আমাশয় রোগের চিকিৎসা বা ডায়রিয়া জনিত রোগের প্রথম চিকিৎসা হলো স্যালাইন সেবন করা। প্রতিবার পায়খানার পর এক গ্লাস মুখে খাওয়ার স্যালাইন খাওয়া উচিৎ (ওরাল স্যালাইন)। তবে অনেক সময় শরীরের পানি বেশী বেরিয়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করে শিরায় স্যালাইন দেয়া লাগতে পারে। আপনার যদি দীর্ঘমেয়াদী আমাশয় থাকে তবে ভালো একজন ডাক্তারকে দেখান। দীর্ঘমেয়াদী আমাশয়ের সমস্যার মধ্যে একটি হলো ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম তথা আই বি এস। পৃথিবীর মানুষ পরিপাকতন্ত্রের যে সমস্যাটির জন্য সবচেয়ে বেশী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকে এবং যে সমস্যাটির জন্য জীবন যাপনের মানের ঘাটতি হয় তা হলো আই বি এস। রিসার্চ অনুযায়ী একটি দেশের লোকসংখ্যার ২০ শতাংশ আইবিএসের লক্ষণ বহন করে এবং ১০ শতাংশ ডাক্তারের কাছে চিকিৎসার জন্যে আসে। পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের প্রায় দুই থেকে তিনগুণ এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়। যারা আইবিএস নামক দীর্ঘমেয়াদী আমাশয় সমস্যায় ভুগে তাদের একটি অংশের উক্ত রোগের  সাথে থাকে বদহজম, দীর্ঘমেয়াদী ক্লান্তি, মাসিকের সময় ব্যথা এবং পুরো শরীর ব্যথা জাতীয় সমস্যা।

আমাশয় রোগের চিকিৎসা

আমাশয় রোগের চিকিৎসা (ভেষজ)

১. আমাশয় রোগের চিকিৎসা করতে বেল বা বেল পাতার ব্যবহার অনেক পুরানো। কচি বেল কুচি কুচি করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করুন। এর মিহি চূর্ণ ১ চা-চামচ  পরিমান সকালে ও সন্ধ্যায় খালি পেটে ১ মাস সেবন করুন।
২. ইসবগুল দানা- ৬ গ্রাম, দধি ১ কাপ একত্রে মিশ্রিত করে সকাল-সন্ধ্যায় ১০ দিন সেবন করলে উপকার পাবেন।
৩. ডালিম পাতা ১০টি একত্রে পাটায় পিসে পানিটুকু সকালে ও সন্ধ্যায় ৭-১০দিন সেবন করুন।
৪. ধাইফুল চূর্ণ ১চা-চামচ আধা কাপ টক দধিতে মিশিয়ে সকালে এবং সন্ধ্যায় ২-৩ দিন সেবন করলে আমাশয় সেরে  যায়।
৫. লাল চন্দন ৫ গ্রাম পরিমান আধা গ্লাস পানিতে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে সকালে জ্বাল দিয়ে তাতে সামান্য মিছরি মিশিয়ে দিনে  ২/৩ বার খালিপেটে ৩-৫ দিন সেবন করলে উপকার হয়।
৬. তজ চূর্ণ ৩ থেকে ৫ গ্রাম পরিমান ঢেকি ছাটা চালে মিশিয়ে ভাত রান্না করে ঐ ভাত দিনে ২বার খেতে হবে। এভাবে ৫-৭ দিন সেবন করলে পুরাতন আমাশয় রোগে উপকার পাওয়া যায়।
৭. বহেড়া চূর্ণ ৩ গ্রাম পরিমান সকালে ও সন্ধ্যায় ৭-১০ দিন খালিপেটে সেবন করলে উপকার হয়।
৮. বিহিদানা ৫ গ্রাম ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে জ্বাল দিয়ে ক্বাথ করে ঐ ক্বাথ দিনে ২ বার খালিপেটে সেবন করলে উপকার হয়।
৯. কালকেশী/ভৃঙ্গরাজ পাতার রস ১ চা-চামচ সকালে ও সন্ধ্যায় আধা কাপ ছাগলের দুধে মিশিয়ে ৭-১০ দিন সেবন করলে পুরাতন আমাশয় রোগের চিকিৎসা হিসাবে দারুন কাজে দেয়।
১০. সাদা ধূপ মিহি চূর্ণ করে ২৫০ মিলিগ্রাম পরিমান দিনে ২-৩ বার খালিপেটে ২-৩ দিন সেবন করলে রক্ত আমাশয়ে উপকার হয়।
১১. আমাশয় রোগের চিকিৎসা করতে শতশত বছর থেকে থানকুনি পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। থানকুনি পাতার রস ২চা-চামচ সকাল-সন্ধ্যায় খালিপেটে সেবন করলে উপকার পাবেন।
১২. মোটা বিচিকলা ২টি পাকা অবস্থায় বিচিসহ দিনে দুইবার চিবিয়ে খেতে হবে ৩-৫ দিন। এতে নতুন আমাশয়ের উপকার হয়।
১৩. জামগাছের কচিপাতার রস ২/৩ চামচ একটু গরম করে খেলে ২/১ দিনেই আমাশয় উপশম হয়। এর সাথে ছাগলের দুধ মেশালে ভালো হয়।
১৪. ডালিম গাছের ছাল সিদ্ধ করে খেতে হবে সকাল-বিকাল। রক্ত আমাশয় রোগের চিকিৎসা করতে এটি একটি কার্যকারী উপায়।
১৫. কুল গাছের (বড়ই) কাচাছাল ২ গ্রাম একটু দুধ মিশিয়ে খেলে উপকার হবে।

ঘরোয়া উপায়ে আমাশয় রোগের চিকিৎসা

১) কলা : কাঁচা কলা হোক বা পাকা কলা লুজ মোশন ঠিক করার জন্য দুটোই উপকারী। এছাড়াও এতে উপস্থিত পটাশিয়াম শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া ইলেক্ট্রোলাইট ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে। কাঁচা কলা সেদ্ধ খেতে পারেন বা  দুই তিন ঘন্টা অন্তর পাকা কলা খেতে পারেন।

২) আদা : আমাশয় রোগের চিকিৎসা করতে আয়ুর্বেদ অনুযায়ী আদা অনেক উপকারি। আদা পেট খারাপ খুব সহজেই ঠিক করতে পারে। খানিকটা আদা ছেঁচে নিয়ে এক কাপ জলে ফুটিয়ে নিন। এই মিশ্রণ ঠান্ডা করে সারাদিনে অল্প পরিমাণে পান করুন।

৩) হলুদ : আমাশয় রোগের চিকিৎসা করার জন্য হলুদ খুবই কার্যকরী। এতে অ্যান্টি ব্যায়োটিক প্রপার্টি আছে যা অন্য খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। পেট খারাপ না থাকলেও রোজ খালি পেটে অল্প কাঁচা হলুদ শরীরের জন্য ভালো।

2,296 total views, 8 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About অনন্যা মিতু

রক্তের সর্ম্পক ছাড়া যদি আর কোনো ঘনিষ্ট কোনো সর্ম্পক থাকে সেটা হলো বন্ধুত্ব।ভাগ্য তোমার আত্মীয় বেছে দেয় আর তুমি বেছে নাও তোমার বন্ধু।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন