একজন আজাদ আমাদের অনুপ্রেরণা – আমাদের অহংকার

একজন আজাদ আমাদের অনুপ্রেরণা – আমাদের অহংকার
5 (100%) 2 votes

এই প্রজন্মের অনেকেই জানেন না শহীদ আজাদ ও তাঁর মায়ের কতোটা অবদান ছিলো আজকের এই স্বাধীন দেশটার জন্য।একজন আজাদ আমাদের অনুপ্রেরণা – আমাদের অহংকার

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

১৯৭১ সালে আজাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে এম.এ পাশ করেন। আজাদ তখন সবেমাত্র পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন। আর সেসময়ই দেশের এমন পরিস্থিতিতে সেও চুপ করে বসে থাকতে পারেন নি। সেও যুদ্ধে যাবে। তবে প্রয়োজন মায়ের অনুমতি। কেনোনা মা ছাড়া তাঁর আর কেউ নেই। আবার তাঁকে ছাড়াও মায়ের কেউ নেই। তাই মায়ের অনুমতি প্রয়োজন। মাকে আজাদ বলল, ‘মা, আমি কি যুদ্ধে যেতে পারি’? মা বললেন, ‘নিশ্চয়ই, তোমাকে আমার প্রয়োজনের জন্য মানুষ করিনি, দেশ ও দশের জন্যই তোমাকে মানুষ করা হয়েছে’। মায়ের অনুমতিক্রমে স্বাধীনতার সংগ্রামে সে-ও ঝাঁপিয়ে পড়ে। সঙ্গে ছিলো বন্ধু শহীদ জননী জাহানারা ইমাম-পুত্র রুমী। ২১ আগস্ট রুমী ও আজাদ মেলাঘরের ক্যাপ্টেন হায়দারের কাছে স্পেশাল ট্রেনিং নিবেন। তাদের মিশন সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন উড়ানো। মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি গেরিলা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রুমি ও আজাদ।

আজাদ আমাদের অনুপ্রেরণা

১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট। রাতে আজাদের মগবাজারের বাড়িতে হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। গুলিতে আহত হন আজাদের খালাতো ভাই জায়েদ। একই সময় ধরা পড়ে ক্র্যাক প্লাটুনের একদল সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। সেসময় আজাদকেও আটক করা হয়। তাকে ধরে নিয়ে রাখা হলো রমনা থানা সংলগ্ন ড্রাম ফ্যাক্টরি সংলগ্ন এম.পি হোস্টেলের মিলিটারি টর্চার সেলে।

এরপর রমনা থানায় ছুটে গিয়েছিলেন আজাদের মা ছেলের সাথে দেখা করার জন্য। মাকে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আজাদ। মা জানতে চাইলেন ‘কেমন আছো’, আজাদ মাকে বললেন, ‘খুব মারে, ভয় হচ্ছে কখন সব স্বীকার করে ফেলি’। ছেলের সামনে তিনি ভেঙ্গে পড়েন নি। বরং ছেলেকে সাহস দিয়ে বলেছিলেন, ‘শক্ত হয়ে থেকো বাবা। কোন কিছু স্বীকার করবে না’।

সেদিন থানা হাজতে মায়ের কাছে আজাদ ভাত খেতে চান। আজাদ মায়ের কাছে ভাত খেতে চেয়ে বলেন, ‘মা কতদিন ভাত খাই না। আমার জন্য ভাত নিয়ে এসো’। মা ভাত নিয়ে যান থানায়। গিয়ে দেখেন ছেলে নেই। এই ছেলে আর কোনদিনও ফিরে আসে নি। ধরে নেওয়া হয় সেদিন-ই ঘাতকরা মেরে ফেলেছে মায়ের যাদুধন আদরের আজাদকে।

ছেলে একবেলা ভাত খেতে চেয়েছিলেন। মা পারেননি ছেলের মুখে ভাত তুলে দিতে। সেই কষ্ট-যাতনা থেকে পুরো ১৪টি বছর ভাত মুখে তুলেন নি মা! তিনি অপেক্ষায় ছিলেন ১৪ টা বছর ছেলেকে ভাত খাওয়াবেন বলে। বিশ্বাস ছিলো তাঁর আজাদ ফিরবে। ছেলের অপেক্ষায় শুধু ভাতই নয়, ১৪ বছর তিনি কোন বিছানায় শোন নি। শানের মেঝেতে শুয়েছেন শীত গ্রীষ্ম কোন কিছুতেই তিনি পাল্টান নি তার এই পাষাণ শয্যা। আর এর মুল কারণ আজাদ রমনা থানায় আটককালে বিছানা পায় নি। এই ছেলে আর কোনদিনও ফিরে আসে নি। ধরে নেওয়া হয় সেদিন-ই ঘাতকরা মেরে ফেলেছে মায়ের যাদুধন আদরের আজাদকে।

72 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন