অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা

অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা
5 (100%) 2 votes

অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা অনেক। আরবিতে জয়তুন নামে ডাকা হয়। ভেষজ গুণে ভরা এই ফলটি লিকুইড গোল্ড বা তরল সোনা নামেও পরিচিত। অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। এক্সট্রা ভার্জিন, ভার্জিন এবং রিফাইনড। যে ফল গুলোর প্রসঙ্গ মহাগ্রন্থ আল কোরআনে এসেছে তার অন্যতম হলো জয়তুন বা জলপাই। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আর তিনি এ পানি দ্বারা তোমাদের জন্য উৎপাদন করেন ফসল। জয়তুন (জলপাই) খেজুর, আঙুর ও সব ধরনের ফল। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে ! (সূরা নাহ্ল : ১১)।  আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, “কুলু আয যাইতু ওয়াদ দাহিনু বিহি, ফা ইন্নাহু মিন শাজারাতিন মুবারাকাতিন” অর্থ- তোমরা এই তেলটি খাও, তা শরীরে মাখাও।”

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা

বুঝতেই পারছেন,অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা কি পরিমান হতে পারে। সেই গ্রিক সভ্যতার প্রারম্ভিক কাল থেকেই এ তেল ব্যবহার হয়ে আসছে  রন্ধন কর্মে ও চিকিৎসা শাস্ত্রে। অবশ্য বাংলাদেশে এ তেলের ব্যবহার তেমন একটা নেই। শুধু শীতকালে শরীরে মাখা বা মালিশের কাজে ব্যবহার হয়, তাও খুবই কম!  অলিভ অয়েলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীর সুস্থ ও সুন্দর রাখে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘খাবারে অলিভ অয়েল ব্যবহারের ফলে শরীরের ব্যাড কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণ হয় এবং গুড কোলেস্টেরল জন্ম হয়।  তাছাড়া পাকস্থলীর জন্য  অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা অনেক। অলিভ অয়েল দেহের এসিড কমায়, যকৃৎ (liver) পরিষ্কার করে, যা প্রতিটি মানুষের ২-৩ দিনে একবার করে দরকার হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের জন্য দিনে এক চা চামচ অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা অনেক কার্যকারী। স্প্যানিশ গবেষকরা দেখেছেন, খাবারে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে ক্লোন ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়। অলিভ অয়েল যে কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুম জাওযি (রহ.) তার (The medicine of the prophet) গ্রন্থে  উল্লেখ করেছেন,অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে। প্রতি ১০০ গ্রাম জলপাইয়ের খাদ্যযোগ্য অংশে রয়েছে- খাদ্যশক্তি- ১৪৬ কিলোক্যালরি, শকরা-৩.৮৪ গ্রাম, চিনি-০.৫৪ গ্রাম, খাদ্য আঁশ- ৩.৩ গ্রাম, চর্বি-১৫.৩২ গ্রাম, আমিষ-১.০৩ গ্রাম, ভিটামিন এ- ২০ আইইউ, বিটা ক্যারোটিন-২৩১ আইইউ, থায়ামিন-০.০২১, রিবোফ্লাবিন-০.০০৭ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন-০.২৩৭ মিলিগ্রাম,  ভিটামিন ই-৩.৮১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন কে-১.৪ আইইউ, ক্যালসিয়াম-৫২ মিলিগ্রাম, আয়রন-৩.১ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম-১১মিলিগ্রাম, ফসফরাস-৪ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৪২ মিলিগ্রাম।

অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা

জলপাইয়ে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ আছে যা চোখের বিভিন্ন রোগ দূর করে, ত্বক, চুল, দাঁত ও হাঁড়কে মজবুত করে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা কতটুকু হতে পারে। এছাড়া অলিভ অয়েল খেলে পিত্তথলিতে পাথর জমবে না, বাতের ব্যথা কমবে। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা দেহের ক্যানসারের জীবাণুকে ধ্বংস করে, রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে বাড়ায়। অলিভ অয়েলে কোনো চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই। এই তেল রক্তের চর্বি বা ফ্যাটের পরিমাণ কমায়। এই তেলে উচ্চহারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট রয়েছে যা দেহের রোগ-জীবাণুগুলো ধ্বংস করে। যখন মানুষের হৃদপিণ্ডের রক্তনালীতে চর্বি জমে, তখন হার্ট এ্যটাক করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। জলপাইয়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হার্ট ব্লক হতে বাধা দেয়। জলপাইয়ে রয়েছে মোনো-স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা আমাদের হার্টের জন্য খুবই উপকারী। জলপাইয়ে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। ভিটামিন এ চোখের জন্য ভালো। যাদের চোখ আলো ও অন্ধকারে সংবেদনশীল তাদের জন্য  অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা ওষুধের মতো কাজ করে। অলিভ অয়েল মনোস্যাটুরেটেড ফ্যাটে থাকে এন্টি ইনফ্লামেটরি। রয়েছে ভিটামিন ই ও পলিফেনাল। যা কিনা অ্যাজমা ও বাত-ব্যাথা জনিত রোগের হাত থেকে বাঁচায়।

বয়স জনিত কারণে অনেকেরই হাড়ের ক্ষয় হয়। এই হাড়ের ক্ষয়রোধ করে জলপাইয়ের তেল। নিয়মিত অলিভ অয়েল খেলে পিত্তথলির পিত্তরসের কাজ করতে সুবিধা হয়। পরিণামে পিত্তথলিতে পাথরের প্রবণতা কমে যায়। এই তেলে চর্বি বা কোলেস্টেরল থাকে না। তাই ওজন কমানোর উপায় হিসাবে এটি কার্যকর। যেকোনো কাটা-ছেঁড়া, যা ভালো করতে অবদান রাখে। জ্বর, হাঁচি-কাশি, সর্দি ভালো করার জন্য অলিভ অয়েল খুবই উপকারী। এটি হাজারো রোগের উত্তম প্রতিষেধক! আশাকরি বুঝতে পেরেছেন অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা কি এবং কতটা পুষ্টিগুনে ভরা এই তেল।

461 total views, 3 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন